আন্তর্জাতিক

সার্বিয়ায় ক্ষমতার মসনদ বদলে দিলো ছাত্ররা, ভোটে হার স্বীকার ভুসিচের

সার্বিয়ায় ক্ষমতার মসনদ বদলে দিলো ছাত্ররা, ভোটে হার স্বীকার ভুসিচের

ছবি: সংগৃহীত

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

সার্বিয়ার আগাম সংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে পরাজয় স্বীকার করেছেন দেশটির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা আলেকসান্দার ভুচিস। প্রাথমিক ভোটের হিসাব অনুযায়ী, বিরোধী এই জোট ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোটের নমুনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ভুসিচ বলেন, ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে স্টুডেন্ট লিস্ট ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। তার নির্বাচনি জোট পেতে পারে ১০৫টি আসন।

চূড়ান্ত ফল তখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে ভুসিচ বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বেলগ্রেডভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ফোনেটের খবরে বলা হয়েছে, ভুসিচ পরাজয় স্বীকারের পর স্টুডেন্ট লিস্টের সদর দপ্তরে উল্লাস শুরু হয়। সমর্থকদের অনেককে আনন্দে কাঁদতেও দেখা যায়।

সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) ২০১২ সাল থেকে দেশটির ক্ষমতায় রয়েছে। এবারের নির্বাচনে দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় দেশজুড়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন জোট।

স্টুডেন্ট লিস্টের সংসদ সদস্য প্রার্থী রাদোমির সাইচিচ বলেন, প্রাথমিক ফলাফলে প্রায় সব ভোটকেন্দ্রেই ছাত্রদের তালিকা এগিয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা জিতেছে। তাদের সঙ্গে জিতেছে এমন একটি সার্বিয়ার আশা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মর্যাদা থাকবে।’

এই জয়কে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন আন্দোলনটির সমর্থকেরা।

সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ব১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর এটিই দেশটিতে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি বলে জানিয়েছে কমিশন।

নির্বাচনে পার্লামেন্টের ২৫০টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৮টি জোট। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ১২৬টি আসন। প্রায় ৬৫ লাখ ভোটার এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন।

সার্বিয়ায় ছাত্রদের নেতৃত্বে প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হন। এ ঘটনার পর দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহির দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন সংস্কারের দাবি জানান। তবে ভুসিচ ও তার দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিষয়:আলেকসান্দার ভুচিস এসএনএস সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি সার্বিয়ার আগাম নির্বাচন স্টুডেন্ট লিস্ট
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…