ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎহীন ঠাকুরগাঁওয়ে মোমবাতির আলোতে এসএসসি পরীক্ষা

ঠাকুরগাঁওয়ে ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীরা মোমবাতির আলোতে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনেই ঠাকুরগাঁওয়ে ঝড়-বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) ভোর থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। এর সঙ্গে যোগ হয় পরিবহন সংকট।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে দেখা যায়, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে থেকেই ভেজা কাপড়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন পরীক্ষার্থীরা। বাইরে অপেক্ষয় থাকা অভিভাবকরাও ছাতা ব্যবহার করে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাননি। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা মোমবাতির আলোতে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন। ভেজা কাপড়ে পরীক্ষা দেয়ায় শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব জিয়াউর রহমান জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোতে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। ২২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।
পাশের গড়েয়া হাইস্কুল কেন্দ্রের সচিব রহিদুল ইসলাম জানান, তাদের কেন্দ্রে ৪৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন অনুপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ না থাকায় স্বল্প আলোতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী লামিয়া অভিযোগ করেন, পরীক্ষার হলে আলোর ব্যবস্থা না থাকায় লিখতে সমস্যা হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থীকে লিখতে না পারায় কাঁদতে দেখা গেছে।
নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার জানান, এখনও কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, শহরে একটি ট্রান্সফর্মার নষ্ট হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে আলোর স্বল্পতা থাকায় মোমবাতির আলোতে পরীক্ষা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম লুৎফুল হাসান সরকার জানান, প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের কিছু লাইনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকলেও অনেক জায়গায় এখনও বন্ধ রয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৭ হাজার ৯৭৭ জন, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ২ হাজার ৮০৮ জন এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ভোকেশনালে ১ হাজার ৯৩৯ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।






