২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের ১৪ মার্চ থেকে এই পরীক্ষা শুরু হবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পরীক্ষার সময়সূচি অনুমোদন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর এবং অভিভাবকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে আগামী মার্চে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে আলোচনা চলছিল। তখন শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা শুরু হতে পারে। এবার সেই সময়সূচিই চূড়ান্ত করা হলো।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে। এ কারণে জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে রমজান ও ঈদের সময়ের সঙ্গে পরীক্ষার সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মে মাসে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি জানিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। আর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৬ জুন শুরু হয়ে ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলার সম্ভাব্য সময়সূচি দেওয়া হয়েছিল।
দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষাগুলোর মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা অন্যতম। প্রতিবছর এসব পরীক্ষায় লাখো শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে হয়ে আসছিল। তবে করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে সেই সূচি আর বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। বরং পরীক্ষা ক্রমেই পিছিয়েছে। চলতি বছরও (২০২৬) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২১ এপ্রিল শুরু হয়। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় জুলাইয়ে।
এর আগে ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল শিক্ষা বিভাগ। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত সভাতেও ডিসেম্বরে পরীক্ষা না নেওয়ার পক্ষে মত আসে। পরে এসএসসি জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি জুনে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এসএসসির সময়সূচিতে আবারও পরিবর্তন আনা হলো।
বর্তমানে দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাবর্ষ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় জুলাইয়ে। দেশের উচ্চশিক্ষার শিক্ষাবর্ষও জুলাই থেকে শুরু হয়। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম, পাবলিক পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়সূচির মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদদের মতে, প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া গেলে তা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের জন্য ইতিবাচক হবে। তবে এ জন্য শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাবর্ষ, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়সূচির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।









