অপরাধ

১২ লাখ টাকায় বিক্রি, মুক্তিপণেও মুক্তি মেলেনি দুই বাংলাদেশির

গ্রেপ্তার ২

১২ লাখ টাকায় বিক্রি, মুক্তিপণেও মুক্তি মেলেনি দুই বাংলাদেশির

বিদেশে ভালো বেতনের চাকরি, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আর উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন দুই বাংলাদেশি তরুণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন পরিণত হয় বন্দিদশা, নির্যাতন ও প্রতারণার ফাঁদে। অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর দুইজনের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকার বেশি মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বিক্রি করা হয় একটি স্ক্যাম সেন্টারে। সেখানে জোর করে অনলাইনে প্রতারণামূলক কাজে নিয়োজিত করা হয়।

কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা সামান্য ভুল করলেই চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। সেখান থেকে মুক্তি পেতে দুই পরিবারের কাছে দাবি করা হয় প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা। সন্তানদের বাঁচাতে সেই অর্থের ব্যবস্থা করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু অর্থ দিয়েও সহজে মুক্তি মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্তির পরও মানবপাচারকারীরা তাদের আবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। দেশে ফেরার টিকিটের অর্থও দিতে হয় পরিবারকে।

এ ঘটনায় মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুরের পূবাইল এলাকার শাওন মোল্লা (২৩) ও সাকিব সরকার (২৬)। গত ২৭ অক্টোবর রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে দুই তরুণের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। মুক্তিপণ ও দেশে ফেরার টিকিটের খরচ যোগ করতে গিয়ে পরিবারগুলোকে আরও অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে বিদেশে চাকরির আশায় যাত্রা করা দুই তরুণের পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার আশায় দুই তরুণ মানবপাচার চক্রের প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় যান। তাদের পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, বিদেশে কাজ করে তারা নিয়মিত আয় করবেন এবং পরিবারের অভাব দূর হবে। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

কোনোভাবে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন দুই তরুণ। মুক্তির পরও মানবপাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের হতে পারেননি তারা। দেশে ফেরার টিকিটের অর্থও পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয়। বিদেশে পাঠানোর খরচ, মুক্তিপণ এবং ফেরার টিকিটের ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারগুলোকে বড় অঙ্কের অর্থ হারাতে হয়।

এরপর প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করতে বাধ্য হন দুই তরুণ। একপর্যায়ে অনলাইনে ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। প্রয়োজনীয় সহায়তায় তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তারা বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

সিআইডির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় পল্টন থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে ২৬ অক্টোবর মামলা করা হয়। মামলার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শাওন মোল্লা ও সাকিব সরকারকে শনাক্ত করা হয়। পরে ২৭ অক্টোবর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. ছুফি উল্লাহ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এই ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির ভূমিকার পাশাপাশি পুরো মানবপাচার চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। বিদেশে চাকরির প্রলোভনে দুই তরুণকে কম্বোডিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়া, তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের লেনদেন, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া, স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি এবং মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

এ জন্য ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক লেনদেন, মেসেজিং অ্যাপের কথোপকথন ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি কম্বোডিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় স্ক্যাম সেন্টারটির অবস্থান ও পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই চক্রের মাধ্যমে আরও বাংলাদেশি পাচারের শিকার হয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

বিষয়:কম্বোডিয়া গ্রেপ্তার ২ মুক্তিপণ সিআইডি স্ক্যাম সেন্টার

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…