আন্তর্জাতিক

৮০ দেশের জোট গঠনের আহ্বান সৌদি রাষ্ট্রদূতের

৮০ দেশের জোট গঠনের আহ্বান সৌদি রাষ্ট্রদূতের

ছবি : সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দমনে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে গঠিত জোটের মতো একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত প্রিন্সেস রিমা বিনতে বানদার।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি এ আহ্বান জানান। সৌদি সংবাদমাধ্যম আল অ্যারাবিয়া ইংলিশের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রিমা বলেন, ৮০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে গঠিত আন্তর্জাতিক জোট যেভাবে আইএসকে পরাজিত করতে ভূমিকা রেখেছিল, একই ধরনের সংকল্প নিয়ে হুথিদের মোকাবিলায়ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।

নিবন্ধে গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন বলে দাবি করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত।

রিমার মতে, হুথিদের তৎপরতা এখন আর ইয়েমেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গোষ্ঠীটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। সোমালিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের সঙ্গে হুথিদের বোমা তৈরির প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রশংসা করে সৌদি রাষ্ট্রদূত অন্য দেশগুলোকেও গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাদের অর্থায়নের উৎস বন্ধ করা এবং অস্ত্র সরবরাহ ঠেকানোর ওপর জোর দেন তিনি।

রিমা বলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তার মতে, হুথিদের সশস্ত্র তৎপরতার অবসান ঘটানোই ইয়েমেনের নেতৃত্বে রাজনৈতিক সমাধানের একমাত্র পথ।

লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন প্রস্পারিটি গার্ডিয়ান’ নামে বহুজাতিক টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইয়েমেনে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, রাডার স্টেশন ও অস্ত্রাগারে বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ হুথিদের পুরোপুরি দমনে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। এ কারণে তিনি আরও বড় পরিসরে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের এই কঠোর অবস্থানকে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখা হয়।

২০২৩ সালে চীন ও ওমানের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়া জোরদার হয়। একই সময়ে ইয়েমেনের সংঘাত নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে লোহিত সাগরে হুথিদের হামলা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজে আক্রমণের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিষয়:আন্তর্জাতিক জোট গঠন ইরান প্রিন্সেস রিমা বিনতে বানদার সৌদি রাষ্ট্রদূত হুথি বিদ্রোহী

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…