রাজধানীর শ্যামলীতে অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেড-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালায়েন্স কলোরেক্টাল ও বায়োফিডব্যাক সেন্টারে’র উদ্যোগে ‘পাইলস ও কোলারেক্টাল রোগের আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি’ বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ বক্তারা বলেন, ‘আঁশযুক্ত খাবার, পরিমিত পানি, ব্যায়াম, আর কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণের ছোট পরিবর্তনগুলোর মাধ্যমেই পাইলস প্রতিরোধ সম্ভব। মানুষ যেন জানে পাইলস প্রতিরোধযোগ্য, চিকিৎসাযোগ্য, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এটা লজ্জার বিষয় নয়। প্রাথমিক অবস্থায় অপারেশন ছাড়াই সুচিকিৎসা করে সুস্থ জীবনের নিশ্চয়তা পাওয়া সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে অতিথি আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন দেশ বরেণ্য চিকিৎসক, বক্ষব্যধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রাশিদুল হাসান। অনুষ্ঠানে বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জেনারেল এন্ড ল্যাপারোস্কপিক সার্জন অধ্যাপক ডা. এস. এম. আমজাদ হোসেন, ইউরোলজিস্ট ও এন্ট্রোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মোঃ মিজানুর রহমান, অবস এন্ড গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. বিলকিস মাহমুদা এবং এডভান্সড ল্যাপারোস্কপিক, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ও জেনারেল সার্জন অধ্যাপক ডা. মোঃ মামুনুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বর্ষিয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান, বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, মহিলা ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার জান্নাতুল ফেরদাউস সুমনা এবং বিশিষ্ট চলচিত্র অভিনেতা আব্দুন নূর সজল অংশগ্রহণ করেন। তারা বলেন, সবাইকে এ ধরনের রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
পাইলস দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ল্যাপারোস্কপিক, কলোরেক্টাল ও পেলভিক ফ্লোর সার্জন ডাঃ ইসমাত জাহান লিমা, কলোরেক্টাল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন অধ্যাপক ডাঃ মোঃ তৗহিদুল ইসলাম, এবং কলোরেক্টাল, ল্যাপারোস্কোপিক এন্ড পেলভিক ফ্লোর সার্জন ডা. মোহা. মেজবাহুল বাহার।
গোলটেবিলে অ্যালায়েন্স হসপিটালের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘অ্যালায়েন্স কলোরেক্টাল ও বায়োফিডব্যাক সেন্টার’-এ বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ৩৬০ ডিগ্রি এপ্রোচে পুরুষ এবং মহিলা চিকিৎসকের সমন্বয়ে অত্যাধুনিক চিকিৎসা বায়োফিডব্যাক সাপোর্ট প্রদান করে যাচ্ছে। মহিলা চিকিৎসকের তত্বাবধানে হচ্ছে ব্যথামুক্ত কলোনোস্কপি এন্ডোস্কপির মত চিকিৎসা এবং এ সংক্রান্ত রোগ নির্ণয়। অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পাইলস কোনো লজ্জার রোগ নয়। এটি খুবই সাধারণ, অথচ ভুল ধারণা ও লজ্জার কারণে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করেন না। ফলে সহজ সমস্যা বড় যন্ত্রণায় পরিণত হয়। ভবিষ্যতে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এই স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।








