বিশ্ব রাজনীতির ময়দানে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরান এই দুই মেরুর বিরোধ নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে এই দ্বৈরথ নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানি আট নারীর জীবন বাঁচানোর জন্য দয়া প্রদর্শনের আহ্বান জানালেন, ইরান সেই দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আল জাজিরার বরাতে উঠে আসা এই খবরটি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনায় পরিণত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল থেকে। সেখানে ট্রাম্প একজন অধিকারকর্মীর পোস্ট শেয়ার করে দাবি করেন, আটজন ইরানি নারী মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই নারীদের মুক্তি দেওয়া হলে ইরানের সাথে যেকোনো আলোচনায় তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও ট্রাম্পের সেই পোস্টে নারীদের নাম উল্লেখ করা ছিল না, ছিল কেবল কিছু অস্পষ্ট ছবি।
ইরান এই দাবির পাল্টায় মুখ খুলতে দেরি করেনি। দেশটির বিচার বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইট মিজান অনলাইন ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার জানিয়ে দিয়েছে যে, ট্রাম্প আবারও বিভ্রান্তিকর তথ্যের শিকার হয়েছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প যে নারীদের কথা বলছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যেই কারামুক্ত হয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সর্বোচ্চ শাস্তি কেবল কারাদণ্ড হতে পারে, মৃত্যুদণ্ড নয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষায়, ট্রাম্পের এই আহ্বান বাস্তবতাবিবর্জিত এবং রাজনৈতিক স্টান্ট। যেখানে তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই তিনি বিশ্বজুড়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সমর্থকরা বিষয়টিকে দেখছেন মানবাধিকার রক্ষায় এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে।
সত্য আর মিথ্যার এই দোলাচলে আট নারীর ভাগ্য এখন কোন দিকে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। তবে এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট কীভাবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে আগুনের ফুলকি ছড়াতে পারে। একদিকে ট্রাম্পের মানবিক আবেদন, অন্যদিকে ইরানের আইনি ব্যাখ্যা সব মিলিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতির মঞ্চে এটি এখন এক অমীমাংসিত নাটকের মতো দাঁড়িয়ে আছে।







