অনথিভুক্ত শরণার্থীদের কাছ থেকে ৮৩০ ডলার বা ৯২ হাজার টাকা জরিমানা নিচ্ছে পাকিস্তান। দেশটিতে যারা ভিসা ছাড়া অবস্থান করছেন, দেশত্যাগের সময় তাদের কাছ থেকে এই জরিমানা নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার ২৫ নভেম্বর ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদেরও এ ফি দিতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে তারা যতদিন পাকিস্তানে অবস্থান করেছেন, সেই অতিরিক্ত দিনগুলো হিসাব করে তাদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে। তবে যারা আফগানিস্তানে ফিরে যাচ্ছেন তারা এই জরিমানার আওতাভুক্ত নয়।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া এসব শরণার্থীর বেশিরভাগই আফগানিস্তানের নাগরিক। ২০২১ সালে তালেবান সরকার পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলে তারা পাকিস্তানে পালিয়ে আসেন।
এর আগে গত অক্টোবরে পাকিস্তান সরকার দেশটির অনথিভুক্ত ১৭ লাখ শরণার্থীকে ১ নভেম্বরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় তাদের জোর করে বের করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, কাবুলের শাসনভার তালেবানের হাতে যাওয়ার পর পাকিস্তানে আসা অনেক আফগান নাগরিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেতে বিলম্বের সম্মুখীন হয়েছে।
পাকিস্তান রিফিউজি কনভেনশনের অংশ নয়। ফলে তারা তাদের সীমান্তে বসবাসকারী আফগানদের কাউকে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বিবিসিকে বলেছে, তারা ‘ইস্যুটি সমাধান করার’ চেষ্টা করছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘আমরা পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে শরণার্থীদের সাথে এরূপ না করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। পাকিস্তান সরকার এবং তার জনগণের আফগান শরণার্থীদের
আশ্রয় ও সুরক্ষা প্রদানের একটি প্রশংসনীয় দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, এটি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।’
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের অভিবাসন আইনের মতো পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করেছে কিংবা অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছে সেসব শরণার্থীদের জরিমানা ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান যে জরিমানা আরোপ করেছে বা করবে তা আমাদের আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’










