মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে অধ্যাদেশ জারি

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সমাবেশের ছবি যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। এই নতুন অধ্যাদেশের ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদসহ মুজিবনগর সরকারের নেতাদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে আর গণ্য করা হবে না। অধ্যাদেশের মাধ্যমে তাদের নতুন পরিচয় দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ থেকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন-২০২২’-এর সংশোধনী অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, শুধুমাত্র তারা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন, যারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন অথবা প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং মুজিবনগর সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে নতুনভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়, যারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসে থেকে কূটনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দিয়েছেন, বিশ্বজনমত গঠনে কাজ করেছেন বা মুজিবনগর সরকারের অধীনে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
এ তালিকায় রয়েছে—
- বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা;
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী এমএনএ বা এমপিএ, যারা পরে গণপরিষদ সদস্য হয়েছিলেন;
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলী;
- মুক্তিযুদ্ধকালীন বিদেশে অবস্থানকারী সাংবাদিক ও পেশাজীবী;
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যরা।
নতুন সংজ্ঞায় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’দের তালিকায় বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার সব নারী (বীরাঙ্গনা), এবং ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসা-কর্মীরা।
এই অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেউ কেউ এটিকে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় নেতৃত্বের ঐতিহাসিক স্বীকৃতিতে বিভাজন সৃষ্টির পদক্ষেপ বলেও আখ্যায়িত করছেন।
অন্যদিকে সরকার বলছে, যুদ্ধকালীন সরাসরি সশস্ত্র অংশগ্রহণ ও কূটনৈতিক বা সাংস্কৃতিক সহায়তার ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতি স্বীকার করেই এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।






