মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। জীবনে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় নানা ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়। ইসলামে ভুলের পর হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে এবং ক্ষমা চাইতে উৎসাহিত করা হয়েছে। কোরআনে এমন একটি দোয়া রয়েছে, যেখানে ক্ষমা, রহমত ও হেদায়াত তিনটিই চাওয়া হয়েছে।
দোয়াটি হলো: رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
উচ্চারণ: রব্বানা জালামনা আনফুসানা, ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা, লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।
অর্থ: “হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।” সূরা আল-আরাফ, ৭:২৩
কার দোয়া ছিল এটি?
কোরআনে হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে এই দোয়াটি উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ভুলের পর আল্লাহর কাছে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করেন।
এই দোয়াটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এখানে নিজের ভুলের দায় অন্যের ওপর চাপানো হয়নি। বরং সরাসরি বলা হয়েছে, “আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি।”
দোয়াটি আমাদের কী শেখায়?
ইসলামের দৃষ্টিতে তওবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের ভুল স্বীকার করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। শুধু ক্ষমা নয়, এই দোয়ায় আল্লাহর রহমতও চাওয়া হয়েছে।
জীবনে কোনো ভুল হয়ে গেলে তাই হতাশ হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত। তবে তওবার সঙ্গে ভুল কাজ ছেড়ে দেওয়া এবং সম্ভব হলে তার ক্ষতি সংশোধন করাও জরুরি।
এই দোয়াটি নামাজের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে পড়া যেতে পারে। এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় বা সংখ্যা নির্ধারিত নেই। ভুল মানুষ করতেই পারে, কিন্তু ভুলের পর আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই মুমিনের পথ।










