এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইউরোপের দেশগুলো রুশ পণ্যবাহী আরও বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে পাল্টা ইউরোপীয় জাহাজ জব্দ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) প্রশান্ত মহাসাগরের রুশ দ্বীপ সাখালিনের কাছে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজে অবস্থানকালে এ হুঁশিয়ারি দেন পুতিন। সেখানে রুশ নৌবাহিনীর সামরিক মহড়া চলছিল। রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুতিন বলেন, ইউরোপ রুশ জাহাজ জব্দের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে রাশিয়াও প্রয়োজন ও উপযুক্ত মনে করলে যেকোনো স্থানে পাল্টা জাহাজ জব্দ করতে প্রস্তুত থাকবে।
সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশ মস্কোর কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ বলে সন্দেহ করা কয়েকটি জাহাজ আটক করেছে। এসব জাহাজে ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রুশ তেল পরিবহন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করে। এর আওতায় সদস্য দেশগুলো জব্দ করা জাহাজের তেল বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
পুতিন ওই নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, কিছু দেশ রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাধীন জাহাজের চলাচল সীমিত করার চেষ্টা করছে। এমনকি রুশ জাহাজ জব্দ করে সেগুলোতে থাকা সম্পদ বিক্রি করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তির বরাতে পুতিন বলেন, ‘এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে আমাদেরও একই ধরনের জবাব দিতে হবে।’
তিনি ইউরোপের পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা ও লুটপাট’ বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ন্যাটোর তৎপরতা নিয়ে অভিযোগ
পুতিন একই সঙ্গে ন্যাটোর বিরুদ্ধে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি আর্কটিক অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্যও সামরিক জোটটিকে দায়ী করেন তিনি।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ন্যাটো এ অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে। নতুন সামরিক-রাজনৈতিক জোট গড়ে উঠছে এবং রাশিয়ার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে বা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে রাশিয়ার নৌবাহিনীর এই মহড়া এমন সময়ে হচ্ছে, যখন এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্ভাব্য উত্তর কোরীয় হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলন হিসেবে ওই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়া অভিযোগ করছে, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হচ্ছে।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনে প্রাণঘাতী বিমান হামলায় রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এর একদিন আগে তিনি বলেছিলেন, মস্কো তার মিত্র পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সেনাসদস্য পাচ্ছে।
জেলেনস্কির দাবি, এ ধরনের সহযোগিতা শুধু ইউক্রেনের জন্য নয়, পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।
রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন অভিযানকে সমর্থন দিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ইতোমধ্যে হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।








