আন্তর্জাতিক

নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে বিক্ষোভ

নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে বিক্ষোভ

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে বিরোধী দলগুলো।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদেও বিভিন্ন রাজ্যে কর্মসূচি পালন করেন বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা।

কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দল, তাদের ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ যুব আন্দোলন প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে নিজেদের পক্ষে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। এ কাজে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় তেলেঙ্গানা রাজ্যে কংগ্রেসের সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পূর্বাঞ্চলীয় বিহারেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করে বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)।

এদিকে প্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুতে ককরোচ যুব আন্দোলনের কয়েকশ সমর্থক বিক্ষোভ করেন। তাদের হাতে ‘প্রত্যেক নাম গুরুত্বপূর্ণ, প্রত্যেক ভোট গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘গণতন্ত্র হত্যা বন্ধ করুন’ লেখা পোস্টার দেখা যায়।

বেঙ্গালুরুর বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২২ বছর বয়সী স্থাপত্যের শিক্ষার্থী খুশি শ্রীবাস্তব বলেন, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে মৌলিক বিষয়গুলোর একটি। যারা ভোট দিতে চান এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার কংগ্রেস অভিযোগ করে, নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার সময় দলটির নেতা রাহুল গান্ধী, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে কিছু সময়ের জন্য আটক করে।

তবে দিল্লি পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সৃষ্টী পাণ্ডে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের সময় কোনো বেআইনি বা অপ্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়াও বিরোধীদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, দায়িত্বজ্ঞানহীন বিরোধীরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই এসব অভিযোগ তুলছে।

মোদির তৃতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এই বিক্ষোভ নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়:আরজেডি ককরোচ যুব আন্দোলন জ্ঞানেশ কুমার ভারতে বিক্ষোভ
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…