বাংলাদেশে সাউথইস্ট ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা ভালো উল্লেখ করে এফবিসিসিআই এর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এম এ কাশেম বলেছেন, বর্তমানে আমরা ভালো রেমিটেন্স অর্জন করতে পারছি। এছাড়া গর্বের সাথে বলতে পারি, গত ডিসেম্বরে আমরা যেই লভ্যাংশ অর্জন করেছি তা গত ৩০ বছরেও করা হয়নি।
সম্প্রতি বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান অবস্থা, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি এবং দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ কি হতে পারে সে সব নিয়ে বিশেষ সাক্ষাতকার নিয়েছেন রাজু আলীম।
এফবিসিসিআই এর সাবেক প্রেসিডেন্ট এম এ কাশেম, বর্তমানে সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে চারবার দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজু আলীম: জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং স্বৈরাচার পতন পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের অবস্থা কেমন বলে আপনি মনে করছেন?
এম এ কাশেম: ১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে ১৫ বছর আগ পর্যন্ত দেশটা অনেক ভালোই ছিল। ধীরে ধীরে শিল্পোন্নত হচ্ছিল আমাদের এই দেশ। দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি থাকা অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের ফোরাম গঠন করি। তিনি বলেন, একদিকে সবাই মিলে যখন এগিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন অন্যদিকে বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়টা আমাদের মেহনতকে পণ্ডশ্রম করে দিচ্ছিল।
রাজু আলীম: শেখ হাসিনার অকস্মাৎ পলায়নের আগে ব্যাংকিং খাতে প্রচণ্ড দুর্নীতি এবং লুটপাট হয়েছে। বিদেশে টাকা পাচারের মাধ্যমে অনেকে ৭০০-৮০০ ফ্ল্যাটের মালিকও বনে গেছেন। সেসব পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে অথবা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
এম এ কাশেম: লুটতরাজদের নিয়ে আমরা সবাই ফ্রাস্টেটেড। এই প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমি পাকিস্তান আমলে ব্যবসায়ী ছিলাম, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শিল্পায়নে মনোনিবেশ করেছি। দুই দুইবার রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে গোল্ড মেডেল পেয়েছি এবং এক পর্যায়ে হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এর নজরে পরি আমারই কর্ম যোগ্যতায়। এসব ঘটনা সমূহ আমার ক্যারিয়ারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
রাজু আলীম: সাধারণত শিল্পপতিরা কোন দলের নিজস্ব হয় না। তারপরও কতিপয় শিল্পপতির দলবাজি করাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

এম এ কাশেম: এক্ষেত্রে আমি সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্টের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। নতুন যারা পূর্ণ উদ্যমে কাজ করছেন তাদের উচিত দেশের মুখ উজ্জ্বল করা।
তিনি বলেন, একদা শিল্পপতিদের একটি দল নিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বলেছিলেন, ‘ইউ পিপল আর আনফিট, ডিউটি নট গো ফর দ্য ইন্ডাস্ট্রি। ইউ অল আর শপকিপার্স’। কথাটা খুব আঘাত করেছিল আমাদের। তাই আমি সকলকে আহ্বান করব, দেশের উন্নয়নে কাজ করুন। দেয়ার ইজ নো অল্টারনেটিভ।
রাজু আলীম: জুলাই অভ্যুত্থানের পরে দেশ কেমন আছে বলে মনে করছেন?
এম এ কাশেম: দেশ বর্তমানে যেভাবে চলছে, নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলছে বলে শোনা যাচ্ছে, সব মিলিয়ে বুঝতে পারছি পরিস্থিতি ঠিক হবে। আমাদের শুধুমাত্র আরেকটু ধৈর্য ধরতে হবে।
রাজু আলীম: জনগণের একাংশ মনে করছেন যে দেশ এখন স্থবির হয়ে আছে। বর্তমানে পাঁচ থেকে সাতটা ব্যাংক ভালো করছে তাদের সেক্টরে। সরকারি ব্যাংকের দুরবস্থা। ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতার এ সমস্যার সমাধান কে করবে বলে আপনি মনে করেন?
এম এ কাশেম: দেশটা আমাদের, তাই সমস্যার সমাধানও আমাদেরকে করতে হবে। গত ৫ মাসে আমাদের এক্সপোর্ট ভালো হয়েছে, ভালো রেমিটেন্স এসেছে। তাই আমি বলব আমাদের ধৈর্য ধারণ করা উচিত। প্রয়োজনে আমরা আরও বেশি ত্যাগ স্বীকার করব।
রাজু আলীম: নির্বাচিত সরকার নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার? দেশের পরিস্থিতির জন্য কে বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আপনি মনে করেন?
এম এ কাশেম: গণতন্ত্রের তুলনা গণতন্ত্র নিজেই। তাই গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে নির্বাচনের দিকে আমাদের ধাবিত হতেই হবে। তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভালো লিডার বাছাই করতে হবে।
রাজু আলীম: বর্তমানে সাউথইস্ট ব্যাংকের অবস্থা কেমন দেখছেন?

এম এ কাশেম: বাংলাদেশে সাউথইস্ট ব্যাংকের ১৩৫টি ব্রাঞ্চ রয়েছে। সাউথ আফ্রিকায় রয়েছে দুইটি ব্রাঞ্চ। এছাড়াও আমাদের এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থাও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা ভালো রেমিটেন্স অর্জন করতে পারছি। গর্বের সাথে বলতে পারি, গত ডিসেম্বরে আমরা যেই লভ্যাংশ অর্জন করেছি তা গত ৩০ বছরেও করা হয়নি।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ আস্থা রাখে আমাদের ওপর। তবে একে আমি জুলাই অভ্যুত্থানের ফসল বলেই মনে করি। দেশে থেকে দেশের মানুষের জন্যই আমৃত্যু কাজ করে যাব। এ বয়সে তো আমি আর কানাডায় সেটেল হব না।








