গোপালগঞ্জ কাশিয়ানী উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা গ্রামের যৌতুক লোভী স্বামী, শাশুড়ী এবং দুই ননদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ঋতু খানম নামে এক নারী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কাশিয়ানী থানার ওসি মোঃ কামাল হোসেন ও ঋতুর বাবা মোঃ রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঋতুর বাব মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, আমার মেয়ে ঋতুর সাথে কাশিয়ানী উপজেলার দক্ষিণ ফুকরা গ্রামের টেপু খাঁনের ছেলে সাজ্জাদ খানের দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর বেশ কিছুদিন তাদের দাম্পত্যজীবন সুখের ছিল। আমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই হঠাৎ করে তার উপর যৌতুকের চাপ দিতে থাকে স্বামী, শাশুড়ি আর দুই ননদ।
তিনি বলেন, মেয়ের সুখের কথা ভেবে সাধ্যমতো যৌতুক হিসেবে বেশ কিছু টাকা দেই। চাহিদা মেতাবেক যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্বামী, শাশুড়ি আর দুই ননোদ মিলে বিভিন্ন সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে । গত সোমবার ও বুধবার তারা মিলে ঋতুকে ইচ্ছেমতো মারধর করে। ওদের মারধরের যন্ত্রনায় শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে পাশের এক প্রতিবেশির ঘরে আশ্রয় নেয় আমার মেয়ে। খবর পেয়ে আমরা ঋতুর কাছে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করি।
ঋতুর বাবা বলেন, বুধবার (২ জুলাই) সকালে গুরুত্বর আহত অবস্থায় ঋতুকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। ঘটনার পর স্বামী, শাশুড়ি ও দুই ননদ পলাতক রয়েছে।
এ ব্যপারে কাশিয়ানী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হলেও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি।
কাশিয়ানী থানার ওসি মোঃ কামাল হোসেন জানান, ঋতু খানমের হত্যার ঘটনায় তার বাবা মোঃ রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে ঋতুর স্বামী, শাশুড়ি ও ননদসহ ৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
তিনি বলেন, আসামিদের এখনও আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে, খুব তাড়াতাড়ি তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো বলে আশা করছি।








