ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৪১ জন যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনার পর। তদন্তকারী সংস্থা সম্ভাব্য ডুয়েল ইঞ্জিন ফেলিওর বা একযোগে উভয় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়াকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।
আজ ২ জুলাই বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটরা একটি ফ্লাইট সিমুলেটরে ওই উড়োজাহাজের অবস্থা তৈরি করে পরীক্ষা চালান। সিমুলেশন চলাকালে ল্যান্ডিং গিয়ার নামানো ছিল এবং উইং ফ্ল্যাপ গুটানো ছিল। এই অবস্থায় উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যাওয়ার কথা নয় বলে জানিয়েছেন তদন্তে যুক্ত একাধিক সূত্র।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র গিয়ার ও ফ্ল্যাপের অবস্থানই দুর্ঘটনার কারণ নয় বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কয়েক সেকেন্ড আগে বিমানে জরুরি শক্তি উৎপন্নকারী ছোট একটি টারবাইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়, যা সাধারণত সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে ব্যবহার হয়। এই তথ্য ইঙ্গিত করে যে, বিমানটি সম্ভবত বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়েছিল – যা আবারও ইঞ্জিন বিকলের দিকেই ইঙ্গিত দেয়।
দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানির তৈরি দুইটি ইঞ্জিন দ্বারা চালিত ছিল। দুর্ঘটনার সময় তোলা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিমানটি টেকঅফের পর সঠিক উচ্চতায় উঠতে পারেনি এবং কিছুক্ষণ পরেই মাটিতে ভেঙে পড়ে আগুন ধরে যায়।
ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার আংশিকভাবে ভিতরের দিকে ঝুঁকে ছিল, যা ইঙ্গিত করে যে পাইলটরা হয়তো গিয়ার রিট্র্যাক্ট করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু ল্যান্ডিং গিয়ার দরজা খোলেনি, যা হাইড্রোলিক বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ইঙ্গিত দেয়। ফ্লাইট রেকর্ডার বা ব্ল্যাক বক্স থেকে তথ্য উদ্ধার করে বিশ্লেষণ চলছে, তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
পাইলটরা টেকঅফের পরপরই সংকেত পাঠিয়েছিলেন। এর মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। ফ্লাইট রেকর্ডারের পূর্ণ ডেটা বিশ্লেষণের পরে আসল কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। এটি ভারতীয় বেসামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা এবং বোয়িং ৭৮৭ মডেলের প্রথম দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতি।








