ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা আবেদনের জরুরি শুনানি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আবেদনকারীর আইনজীবীকে ‘আদালতের সময় নষ্ট না করার’ পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি আদালতে উত্থাপন করা হলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আমাদের সময় এবং আপনার সময় নষ্ট করবেন না।’ আইনজীবী দিল্লি পুলিশের হাতে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ তুলে জরুরি শুনানির আবেদন করেছিলেন।
তিনি আদালতকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ভিডিও দেখানোরও চেষ্টা করেন। তবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা কোনো ভিডিও দেখতে চাই না।’
সোমবার (২০ জুলাই) সিজেপির ডাকে হাজারো মানুষ দিল্লির রাজপথে নেমে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম পরিহিত পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভস্থলের কাছে অভিযান চালালে অনেক বিক্ষোভকারী ছত্রভঙ্গ হয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশে দিল্লি পুলিশ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং আদালতের পূর্ববর্তী বাধ্যতামূলক নির্দেশনা মানেনি। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারপতিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়।
এছাড়া অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ এফআইআর দায়েরের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভের আয়োজকরা পুলিশের ‘অতিরিক্ত কঠোরতা’র নিন্দা জানিয়ে দাবি করেন, এ ঘটনায় শত শত বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
সিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, ‘ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি লজ্জাজনক একটি দিন। প্রকৃত একটি ইস্যুতে আন্দোলন করতে আসা সৎ শিক্ষার্থীদের দিল্লি পুলিশ নির্মমভাবে পিটিয়েছে।’
এর আগে মঙ্গলবার একই ঘটনায় দিল্লি হাইকোর্টেও জরুরি শুনানির আবেদন করা হয়। তবে প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজাস কারিয়ার বেঞ্চ তাৎক্ষণিক শুনানি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বুধবার মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেন।
শুনানির সময় বেঞ্চ আবেদনকারীকে উদ্দেশ করে বলে, ‘এসব বিষয়ে আদালতকে টেনে আনবেন না।’
আবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা এবং নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও নাগরিক গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন। ১৭ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ১৮ জুলাই অনশনের ২১তম দিনে পুলিশ বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করে। সরকারি বক্তব্যে বলা হয়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই দিন পুলিশ জোরপূর্বক বিক্ষোভস্থল খালি করে, অনেক বিক্ষোভকারীকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরিয়ে দেয় বা আটক করে এবং সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের হয়রানি করা হয়েছে এবং তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ভেঙে দিতে পুলিশের ক্ষমতার সীমা নিয়ে গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আবেদনকারীর দাবি, পুলিশের এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক ভিন্নমত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকারকে ভীতিকরভাবে সীমিত করেছে। এই জনস্বার্থ মামলাটি সোনম ওয়াংচুক বা কোনো নির্দিষ্ট বিক্ষোভকারীর ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়; বরং সব নাগরিকের সাংবিধানিক স্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যেই করা হয়েছে।
আবেদনের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, ১৮ জুলাই যন্তর মন্তরে পুলিশের অভিযান, বলপ্রয়োগ, বিক্ষোভকারীদের আটক এবং অনশন ভেঙে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কমিশনার বা অন্য কোনো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া।







