কয়েকটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে রাজধানীতে আয়োজন করা হয়েছে পিএইচএ গ্লোবাল সামিট-২০২৪ উল্লেখ করে সংগঠনের চেয়ারপার্সন ডা. তাসবিরুল ইসলাম বলেছেন, দেশের চিকিৎসকদের মাঝে আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা নিয়ে জ্ঞানের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ করা।
সম্প্রতি ডা. তাসবিরুল ইসলাম প্লেনোটারি হেলথ একাডেমিয়া বা পিএইচএ গ্লোবাল সামিট-২০২৪’র আয়োজন, উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে চ্যনেল আই অনলাইনের সাথে কথা বলেন।
নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি চিকিৎসক, গবেষক, একাডেমিশিয়ানদের সংগঠন পিএইচএ-এর আয়োজনে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৯ দিনের এই সম্মেলনে দেশ বিদেশের দু’হাজারের অধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও মেডিকেল শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এ ধরনের আয়োজন শুধু দেশের জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়াতেও প্রথম বলে উল্লেখ করেন আয়োজকরা।
শিকাগো মেডিকেল স্কুলের পালমোনারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের ডা. তাসবিরুল ইসলাম পিএইচএ-এর চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শুরু থেকেই। আমেরিকাতে বসবাস করলেও দেশের চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন ও মান বৃদ্ধিতে তিনি নিবেদিত এক প্রাণ।
ডা. তাসবিরুল ইসলাম জানান, কয়েকটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ঢাকাতে প্রথমবারের মতো পিএইচএ গ্লোবাল সামিট ২০২৪’র আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- দেশের চিকিৎসকদের মাঝে আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা নিয়ে যে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ করা। একই সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন গভীর বিষয় নিয়ে আইডিয়া এক্সচেঞ্জ করা, ওয়েস্টার্ন এবং ইস্টার্ন’র মধ্যে ব্রিজ তৈরি করে বেটার আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এর জায়গাগুলো প্রশস্ত করা।
তিনি বলেন, সেই সাথে জটিল সব রোগ প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসা ব্যবস্থায় একদম নতুন যে ধারণাগুলো আসছে সেই সম্পর্কে একে অপরকে অবগত করা। আর সার্বিকভাবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া।
তার মতে, আমাদের দেশ থেকে অনেক রুগী চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলে যায়। আবার যারা আর্থিকভাবে সামর্থ্য তারা সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, থাইল্যান্ড চলে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা উল্টোটা করে দেখার স্বপ্ন দেখেন। ভালো চিকিৎসার নিশ্চয়তার মাধ্যমে অন্যদেশের রুগীকে এদেশে আনতে চান।
ডা. তাসবিরুল ইসলাম বলেন, এই সম্মেলন আয়োজনে অনেকগুলো বিশেষ অধিবেশন পরিচালিত হচ্ছে। বিদেশ থেকে প্রচুর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এসেছেন। উন্নত চিকিৎসা ও গবেষণা নিয়ে তারা কথা বলছেন। এতে করে আমাদের চিকিৎসকরা আরও সমৃদ্ধ হবেন। বিশেষ করে তরুণ চিকিৎসকদের উন্নয়নে এই আয়োজন বিরাট প্রভাব রাখবে।
পিএইচএ’র কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, পিএইচএ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সাথেও হাতে-কলমে কাজ করছে। এর আগে পিএইচএ-এর পক্ষ থেকে মেডিকেল অলিম্পিয়ার্ডের আয়োজন করা হয়েছিল। অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামও করা হয়েছে। ক্যারিয়ার ডেভেলপ নিয়েও কাজ করা হয়েছে। আসলে এরকম অন্তর্নিহিত অনেকগুলো উদ্দেশ্য আছে।
তিনি আরও বলেন, পিএইচএ-এর পক্ষ থেকে আমরা ট্রাভেল ফেলোশিপও দিয়েছি। এই প্রক্রিয়ায় কেউ বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি বিষয়ের ওপর সম্পূর্ণ জ্ঞান নিয়ে দেশে এসে সেটা প্রয়োগ করেছে। এই প্রক্রিয়ার ধারায় এখন আমরা চিন্তা করছি বাইরে থেকে কিডনি, লিভার, নিউরোসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞ টিম নিয়ে আনার। তারা এখানে এসে সরাসরি প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। এতে আমাদের চিকিৎকরা অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবেন।

ডা. তাসবিরুল ইসলাম বলেন, আমরা যা কিছু করছি এটা সাধারণ মানুষের স্বাস্ব্যসেবা নিশ্চিত ও গণমুখী করতেই করছি। একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে এদেশে কিন্তু অনেকেই মারা যাচ্ছে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না দেওয়ার কারণে।
সম্প্রতি মারা যাওয়া অভিনেতা আহমেদ রুবেলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দেখেন, কত দ্রুত উনি (রুবেল) মারা গেলেন। আসলে উনার জন্য ওই সময় প্রয়োজন ছিল দ্রুত পালস দেখা এবং একই সাথে সিপিআরটা (কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন) করা। সেটা করা হয়নি, এটি করা হলে তিনি হয়ত বেঁচে যেতেন। আমরা তাই সবাইকে শেখাতে চাই ‘বেসিক লাইফ সাপোর্ট’র বিষয়গুলোও। এগুলো নিয়েও কাজ করছি। আমরা সার্টিফিকেশন কোর্সও করাচ্ছি।
২০২০ সালের জুলাইতে করোনাকালীন পিএইচএ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। আজকে বাংলাদেশে করোনার যে গাইডলাইন সেখানে পিএইচএ-এর অবদান রয়েছে বলে জানা যায়। করোনার সময় হাইফ্লো কনসেপ্টটাও এ দেশে নিয়ে আসে পিএইচএ।
সবশেষে এদেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে ডা. তাসবিরুল ইসলাম বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে অনেক আক্ষেপ, বেদনা ও কষ্টের জায়গা রয়েছে। প্রথমত, এদেশে স্বাস্থ্য বাজেট খুবই কম। অপারেশনাল কস্ট বেড়েছে, কিন্তু কমেছে ডেভেলপমেন্ট কস্ট। আর আমরা চিকিৎসা খরচটা কমিয়ে আনতে পারিনি। চিকিৎসা করাতে গিয়ে বেশিরভাগ টাকাই জনগণের পকেট থেকে চলে যাচ্ছে।








