স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম বলেছেন, এখন থেকে দুর্ঘটনায় অঙ্গ হারানো মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুত চিকিৎসা পাবেন।
আজ রোববার ২৭ আগস্ট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চুক্তিটির আওতায় দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে হাত-পা হারানো মানুষকে দ্রুত চিকিৎসা দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) কাজ করবে প্রতিষ্ঠান দুটি।
ডা. এবিএম খুরশিদ আলম বলেন, “এমন একটি মহৎ কাজের জন্য আমি ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই লিম্ব এবং ব্রেস সেন্টারটা অনেক মানুষের উপকার করবে। কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই যেন এই সেন্টার চলতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমি বাংলাদেশের ৮টি মেডিকেল কলেজে এই মডেলটা স্থাপন করতে চাই। আমি ব্র্যাককে বলব আপনারা পরিকল্পনা নিয়ে আসুন, আমরা একসাথে কাজ করব। করোনা মোকাবেলায় আপনারা পাশে ছিলেন, এবারও আছেন, সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।”
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় সংস্থা দুটি একজন দরিদ্র মানুষকে ৫০ শতাংশ কম খরচে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে সক্ষম হবে। শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি প্রতিষ্ঠানে গত বছর (২০২১) ডিসেম্বর মাসে কৃত্রিম অঙ্গ সংস্থাপন চিকিৎসাকেন্দ্র খোলা হয়। এখন পর্যন্ত ৪৫০ জনের বেশি রোগী এখান থেকে সেবা পেয়েছেন। এই কেন্দ্রটি ব্র্যাক লিম্ব অ্যান্ড ব্রেস সেন্টারের দ্বারা পরিকল্পিত এবং পরিচালিত হচ্ছে।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত ব্র্যাক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসহ মানুষের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা, ডায়াবেটিক গ্যাংগ্রিন, পোড়া রোগী, বারজারস ডিজিজ ও ক্যান্সার প্রতিবন্ধিত্বের উল্লেখযোগ্য কারণ। ব্র্যাক লিম্ব অ্যান্ড ব্রেস সেন্টার (বিএলবিসি) দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গহানির শিকার রোগীদের কম খরচে, মানসম্পন্ন ও ব্যবহারবান্ধব প্রস্থেটিক্স ও অর্থোটিক্স (পি অ্যান্ড ও) সেবা, ফিজিওথেরাপি, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন পরিষেবা দিয়ে আসছে।
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ একজন সামাজিক উদ্যোক্তা ছিলেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বলে গেছেন নতুন নতুন সামাজিক সমস্যার সমাধানে যদি ব্র্যাক কাজ না করতে পারে তাহলে এর থাকার কোনো দরকার নাই। সেই মানসিকতা থেকেই ব্র্যাক সবসময় সামাজিক সমস্যা সমাধানের মডেল তৈরি করে। আজকে যে মডেলটা উদ্বোধন করতে যাচ্ছি তার মাধ্যমে সরকারের অবকাঠামো ব্যবহার করে আমরা একটা সার্ভিস দিচ্ছি। এই সার্ভিস মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখতে আর কত সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে, সেই জায়গাতে আমরা সফল হতে পারছি। এখানে যখন আমাদের কাজ করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল আমরা সেটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলাম। এই মডেলটাই আমরা সব জায়গায় ব্যবহার করতে চাই। এই সেক্টর নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী কারণ আপনাদের আগ্রহ আছে, আমাদেরও আগ্রহ আছে”।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম, জাতীয় সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন, ব্র্যাকের স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির পরিচালক ডা. মোরশেদা চৌধুরী।








