মিশরের ফেন্সার নাদা হাফেজ প্যারিস অলিম্পিকে অংশ নেয়ার পর প্রকাশ করেছেন চমকপ্রদ এক তথ্য। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি, সেই অবস্থায়ই আসরে অংশ নিয়েছেন। পেশায় চিকিৎসক ২৬ বর্ষী এ ক্রীড়াবিদ তৃতীয়বার অলিম্পিকে নামলেন।
মেয়েদের ব্যক্তিগত স্যাবার ইভেন্টে প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের এলিজাবেথ টারতাকোভস্কির বিপক্ষে ১৫-১৩ পয়েন্টে জিতেছিলেন। সোমবার গ্র্যান্ড প্যালেসে শেষ ষোলোর খেলায় সাউথ কোরিয়ার জিওন হায়ংয়ের কাছে ১৫-৭ পয়েন্টে হেরে বিদায় নেন।
খেলা শেষে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে গর্ভাবস্থায় অলিম্পিকে খেলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন মিশরীয় অ্যাথলেট। লিখেছেন, ‘পোডিয়ামে আপনারা দুজন খেলোয়াড়কে দেখলেও আসলে তিনজন ছিলাম! এখানে আমি, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী এবং আমার পৃথিবীতে না আসা ছোট্ট সন্তান!’
‘আমি এবং আমার বাচ্চা শারীরিক এবং মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জগুলোর অংশীদার হতে পেরেছি। গর্ভাবস্থায় রোলারকোস্টার যাত্রা এমনিতেই কঠিন। তবে জীবন ও খেলাধুলার ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য এই লড়াই কোনো অংশে কম ছিল না। যদিও এটি আমার কাছে মূল্যবান। আমি ভাগ্যবান যে, আমার স্বামী (ইব্রাহিম ইহাব) ও পরিবারের আস্থা অর্জন করেছি এবং এতদূর আসতে পেরেছি।’
২০১৬ রিও ডি জেনেইরো, ২০২১ টোকিও অলিম্পিকে রাউন্ড অব ৩২ পেরিয়ে যেতে পারেনি নাদা। এবার রাউন্ড অব ১৬-তে জায়গা করে নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন। আমেরিকান চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে জিতে র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে উঠে এসেছিলেন। একসময় তিনি মিশরের জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।
ইনস্টাগ্রামে মিশরীয় নারীদের শক্তির উপর গুরুত্ব দিয়ে নাদা লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় জাতির কাছে যখন আমার গর্ভাবস্থার কথা বলেছিলাম, তখন সেটি ছিল মিশরীয় নারীর শক্তি, অধ্যবসায় এবং নিরলসতার উপর আলোকপাত করা। মিশরীয় ক্রীড়াবিদ, ডাক্তার এবং বেশিরভাগ নারী কী করতে পারেন, এটি তার স্পষ্ট এক বিজয় প্রদর্শন।’
‘আমি একমাত্র ক্রীড়াবিদ নই যে গর্ভবতী হওয়ার সময় অংশগ্রহণ করেছিলাম। আরও অনেক আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়ন আছেন, যারা গর্ভবতী হয়ে খেলেছেন। কারণ তাদের থামানোর জন্য কোনো চিকিৎসাজনিত নিষেধাজ্ঞা নেই। আমি অলিম্পিকে মিশরের প্রতিনিধিত্ব করে মিশরীয় নারীরা কী করতে সক্ষম, তা দেখিয়ে খুব গর্বিত!’








