আন্তর্জাতিক

পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর, ভারতের প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর, ভারতের প্রতিক্রিয়া. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহীত

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির একটি মূল ধারা অনুযায়ী যে কোনও দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন, উভয় দেশের বিরুদ্ধেই আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রিয়াদ সফরের সময় এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হয়। সফরের সময় তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে আল-ইয়ামামা প্রাসাদে বৈঠক করেন।

যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্কের পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চুক্তিটি দুই দেশের প্রায় আট দশকের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এবং ভ্রাতৃত্ব, ইসলামি সংহতি, যৌথ কৌশলগত স্বার্থ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই সমঝোতা দুই দেশের নিরাপত্তা জোরদার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের যৌথ প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে। চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যেকোনও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ চুক্তি প্রসঙ্গে একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, এটি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের এক নিরাপত্তা সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক রূপ মাত্র।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আমরা প্রতিবেদন দেখেছি। সরকার জানত যে, এই পদক্ষেপ দীর্ঘদিন ধরে বিবেচনায় ছিল। আমরা এই চুক্তির প্রভাব জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার উপর কী হতে পারে, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করব। সরকার ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বাত্মক জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই চুক্তির প্রেক্ষাপট আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ সম্প্রতি পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলা ও ভারতের পাল্টা ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে।

তবে ভারত ও সৌদি আরবের সম্পর্ক একই সময়ে দৃঢ় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত-সৌদি সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মোদি এখন পর্যন্ত তিনবার সৌদি সফর করেছেন এবং ২০১৬ সালে তাকে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘কিং আবদুলআজিজ স্যাশ’ প্রদান করা হয়।

চলতি বছর এপ্রিল মাসে মোদির রিয়াদ সফরের সময়, সৌদি আরব কড়া ভাষায় পাহালগাম হামলার নিন্দা জানায়। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসের কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। যেকোনো কারণেই হোক, সন্ত্রাসকে সমর্থন করা যাবে না।

তারা আরও বলেন, সীমান্ত পারাপারের সন্ত্রাসবাদকে নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সব রাষ্ট্রকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদকে কখনও ব্যবহার না করতে, সন্ত্রাসী কাঠামো ধ্বংস করতে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে।

বিষয়:পাকিস্তান সৌদি আরব স্বাক্ষর

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…