১২ বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। আসরে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচে অবশ্য পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তবে ইতিহাস রচনা করেছে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে। অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে উড়তে থাকা সাউথ আফ্রিকাকে থামিয়ে রচনা করেছে নতুন মহাকাব্যের।
ধর্মশালায় প্রোটিয়াদের ৩৮ রানে হারিয়েছে নেদারল্যান্ডস। ওয়ানডে ক্রিকেটে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে এটিই প্রথম জয় ডাচদের। ওয়ানডেতে এই ম্যাচের আগে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে মোট সাতবার। যার ছয়টিতেই জিতেছে প্রোটিয়ারা। অন্য একটি ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুদল এর আগে মুখোমুখি হয়েছিল মোট তিনবার। যার তিনটিতেই জিতেছে সাউথ আফ্রিকা।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে অবশ্য এর আগেও জয়ের স্বাদ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। তবে সেটা টি-টুয়েন্টিতে। গতবছর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে সুপার টুয়েলভের লড়াইয়ে ১৩ রানে সাউথ আফ্রিকাকে হারায় নেদারল্যান্ডস।
ধর্মশালায় সাউথ আফ্রিকা-নেদারল্যান্ডস ম্যাচের আগে হানা দিয়েছিল বৃষ্টি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর খেলা গড়ায় ৪৩ ওভার করে। টসে জিতে ডাচদের আগে ব্যাটে পাঠায় প্রোটিয়ারা। নির্ধারিত ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৫ রানে থামে নেদারল্যান্ডস। জবাবে নেমে ৪২.৫ ওভারে ২০৭ রানে গুটিয়ে যায় টেম্বা বাভুমার দল।
২৪৬ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুটা খারাপ হয়নি প্রোটিয়াদের। প্রথম উইকেট জুটিতে আসে ৩৬ রান। ২২ বলে ২০ রান করা কুইন্টন ডি কক ফেরার পর ধস নামে প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপে। ৪৪ রানেই প্রোটিয়ারা টপঅর্ডারের আরও তিন ব্যাটারকে হারায়।
একে একে ফিরে যান টেম্বা বাভুমা, এইডেন মার্করাম ও রসি ফন ডার ডুসেন। ৩১ বলে ১৬ রান করেন বাভুমা। বাকী দুজন পৌঁছাতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘরে।
৪৪ রানে চার উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৪৫ রান তোলেন হেইনরিখ ক্লাসেন ও ডেভিড মিলার। ১৯তম ওভারের পঞ্চম জুটিতে আঘাত হানেন লোগান ফন বিক। ২৮ বলে ২৮ রান করে ফিরে যান ক্লাসেন। ১০৯ রানে ষষ্ঠ ব্যাটারকে হারায় প্রোটিয়া বাহিনী। ২৫ বলে ৯ রান করা মার্কো জানসেনকে ফেরান পল ফন মিকেরেন।
একপ্রান্ত আগলে রেখে প্রোটিয়াদের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ডেভিড মিলার। ৩১তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৪৫ রানে মিলারকে ফেরান ফন বিক। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ৫২ বলে ৪৩ রান করেন মিলার।
৩৪তম ওভারে জেরাল্ড কোয়েটজিকে ফেরান বাস ডে লেডে। কোয়েটজি ২৩ বলে ২২ রান করেন। ৩৬তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় শিকার তুলে নেন ডে লেডে। ফেরান ৬ বলে নয় রান করা রাবাদাকে।
১৬৬ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর শেষের দিকে লুনগি এনগিদিকে সঙ্গী করে রান ব্যবধান কমান কেশব মহারাজ। ৩৭ বলে ৪০ রান করে ফেরেন তিনি। লুনগি অপরাজিত ছিলেন ২৪ বলে ৭ রান করে।
ডাচদের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন লোগান ফন বিক। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন পল ফন মিকেরেন, বাস ডে লেডে ও রোয়েলফ ফন ডের মেরউই। এছাড়া কলিন অ্যাকেরম্যান নেন একটি উইকেট।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটে নেমে প্রোটিয়া বোলারদের সামনে শুরুর দিকে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি ডাচ ব্যাটাররা। জানসেন-রাবাদাদের তোপে নিয়মিত বিরতিতেই হারিয়েছে উইকেট। শেষের দিকে অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসের ফিফটি ও রোয়েলফ ফন ডের মেরউই ও আরিয়ান দত্তের ঝড়ো ইনিংসে অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে নেদারল্যান্ডস।
২৪৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর করে থেমেছে তারা। ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান করেছেন এডওয়ার্ডস। ৬৯ বলে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ডাচ অধিনায়ক। ১৯ বলে ২৯ রান করে আউট হন রোয়েলফ। আরিয়ান দত্ত অপরাজিত ছিলেন ৯ বলে ২৩ রান করে।
এছাড়া তেজা নিদামানুরু ২৫ বলে ২০ রান, সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট ৩৭ বলে ১৯ রান করেছেন। বাকীদের কেউই উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেননি।
প্রোটিয়াদের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মার্কো জানসেন, লুনগি এনগিদি ও কাগিসো রাবাদা। এছাড়া কেশব মহারাজ, জেরাল্ড কোয়েটজি একটি করে উইকেট নেন।






