পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দীত্ব ও তার সঙ্গে কথিত আচরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। ইমরান খানের মানবাধিকার ও চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যকে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে ট্যাগ করে জেমিমা প্রশ্ন করেন, ‘ব্রিটেন আর কতদিন নীরব থাকবে?’
জেমিমা অভিযোগ করেন, তার দুই ছেলে কাসিম ও সুলেমানের বাবা ইমরান খান গত তিন বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কারণে কঠোর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। তার দাবি, ইমরানকে দীর্ঘ সময় একাকী বন্দীত্বে রাখা হয়েছে এবং প্রায় ১০ মাস ধরে পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে দেখা বা যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
ইমরানকে বই পড়া, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জেমিমা। জাতিসংঘের নেলসন ম্যান্ডেলা রুলসের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী টানা ১৫ দিনের বেশি একাকী বন্দীত্ব নিষিদ্ধ এবং তা নির্যাতনের পর্যায়ে পড়তে পারে। অথচ ইমরানকে তিন বছর ধরে এমন পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জেমিমার ভাষ্য, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা, ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ, নিয়মিত পারিবারিক সাক্ষাৎ এবং সপ্তাহে দুইবার ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জেমিমা বলেন, বিষয়টি এখন আর শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি মানবাধিকার সংকটে পরিণত হয়েছে। তাই যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে ও স্পষ্টভাবে কথা বলা।
ইমরান খানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন জেমিমা। তিনি বলেন, ইমরান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং ইংল্যান্ডে বহু বছর কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তার সম্পর্ক পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। এছাড়া পাকিস্তানে ক্যানসার হাসপাতাল ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ ইমরানের দাতব্য কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করেন জেমিমা।
তিনি বলেন, ইমরান খানের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি এর আগেও একাধিকবার আহ্বান জানিয়েছেন। এবার পাকিস্তানকে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে ইমরানের চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের একাকী বন্দীত্বের অবসান ঘটানোর জন্য যুক্তরাজ্যের প্রকাশ্য চাপ প্রয়োগ করা উচিত।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের পরিবার ও তার দল দীর্ঘদিন ধরে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে আদিয়ালা কারাগার থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কারাগারের বাইরে জড়ো হওয়া জনসমাগমের মধ্যে তাকে সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেওয়া হয়।
পরে মেডিকেল বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে পাঠানো হয়। ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। বিভিন্ন মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। ইমরান খান ও তার দল এসব মামলাকে ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।









