বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্পে ফর্টিফাইড আটা ও ময়দার বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং এর পুষ্টিগত প্রভাব নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মশালা মিলার্স ফর নিউট্রিশন কোয়ালিশনের উদ্যোগে, টেকনোসার্ভ কর্তৃক বাস্তবায়িত ও গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত হয়।
বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি, এই কর্মশালাটি ঢাকার গুলশানে অবস্থিত লেকশোর হাইটস হোটেলে আয়োজিত হয়।
কর্মশালায় ফর্টিফাইড আটা ব্যবহার করে কীভাবে একদিকে অপুষ্টি মোকাবিলা এবং অন্যদিকে দেশীয় ও রপ্তানিমুখী প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্পে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা যায়—সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শীর্ষস্থানীয় প্রক্রিয়াজাত খাদ্য প্রস্তুতকারক, ফ্লাওয়ার মিল মালিক, খাদ্যপ্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে এসিআই ফুডস্, ইফাদ মাল্টি প্রডাক্টস, আকিজ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মেঘনা গ্রুপ, আমান গ্রুপ, গোল্ডেন হারভেস্ট, প্রাণ গ্রুপ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, গ্রামীণ ড্যানোন, কিউএএম (কেএফসি ও পিজ্জা হাট), ইগলু, জনতা বিস্কুট, ড্যান ফুড, ইউরো ফুডসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বহু খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। বিস্কুট, বেকারি, দুগ্ধজাত খাদ্য, নুডলস, স্ন্যাকস ও রেডি-টু-ইট পণ্যে ফর্টিফাইড আটা ব্যবহারে শিল্পখাত যে প্রস্তুত—এই উপস্থিতি তারই প্রতিফলন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে টেকনোসার্ভের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. গুলজার আহমেদ বলেন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্প জনগণের কাছে অপরিহার্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম। ফর্টিফাইড আটা ব্যবহারে একদিকে ব্র্যান্ড ভ্যালু ও প্রতিযোগিতা বাড়ে, অন্যদিকে জাতীয় পুষ্টি লক্ষ্য অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ এবং টেকনোসার্ভের সিনিয়র ফুড ফর্টিফিকেশন স্পেশালিস্ট মো. নাঈম জোবায়ের। এছাড়া “পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে?” শীর্ষক আলোচনায় ডব্লিউএফপি, গেইন, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বিএএসএফ, বুলার বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রেজা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ফর্টিফাইড আটা একটি সময়োপযোগী উদ্ভাবন। ভবিষ্যতে এটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। তিনি পুষ্টিসংবেদনশীল খাদ্য ব্যবস্থা গঠনে বেসরকারি খাতের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। তিনি বলেন, ফর্টিফাইড আটা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও টেকসই জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের একটি কার্যকর মাধ্যম।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে টেকনোসার্ভের পক্ষ থেকে শিল্প, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথভাবে খাদ্য ফর্টিফিকেশন সম্প্রসারণে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।







