যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা স্থগিত হওয়ার খবরে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমেছে।
সোমবার ২৭ জুলাই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহেই এই তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল।
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের ওপর হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। তার ভাষ্য মতে, এতে ‘আলোচনার জন্য কিছুটা অবকাশ’ তৈরি হবে। এর পরদিনই ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, তেহরানও এই অঞ্চলে ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা আপাতত বন্ধ রেখেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সংঘাতের প্রভাবে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
এর আগে জুনে দুই দেশ সামরিক অভিযান স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলে তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে, অর্থাৎ ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলারে নেমে আসে। তবে চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দেয় এবং গত সপ্তাহে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এদিকে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দেয়।
ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানাহ স্ট্রিটার বলেন, সংঘাতের পরিস্থিতি বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় বাজার এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো রয়ে গেছে এবং চলমান আলোচনা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে কি না, সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দামের ওঠানামা শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পেট্রোল ও ডিজেলের দাম থেকে শুরু করে পরিবহন ব্যয় এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যেও পড়ে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।







