ইতালির কঠিন সময়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছিলেন দেশটির কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্দ্রে পিরলো। সবকিছু প্রায় ঠিক, চুক্তি হওয়ার কথা ছিল ২০৩১ সাল পর্যন্ত। হঠাৎ খবর, আজ্জুরিদের কোচের পদে নেই পিরলোর নাম। কারণ জেনে চুপ থাকেননি ইতালির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী।
ইতালির ক্রীড়া সাংবাদিক জিয়ানলুকা দি মারজিওর জানাচ্ছে, একটি রাশিয়ান স্পোর্টস বেটিং প্ল্যাটফর্মের সাথে সম্পর্ক থাকা পিরলোর প্রার্থিতা বাতিলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ইতালির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিওভান্নি মালাগো বিষয়টি জেনে পিরলোর জন্য সবুজ সংকেত না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে ইতালির গণমাধ্যম বলছে, এমন সিদ্ধান্তের ফলে ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মালদিনি-লিওনার্দো জুটি পদত্যাগপত্র জমা দিতে চলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিরলো লিখেছেন, ‘প্রতিষ্ঠান, ফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্ট সকল মানুষের প্রতি সম্মান রেখে আমি এপর্যন্ত নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু গতরাতে জানতে পারি আমি আর ইতালীয় জাতীয় দলের কোচের পদের প্রার্থী নই। আমি মনে করি কয়েকটি বিষয় এখন আমার স্পষ্ট করা প্রয়োজন।’
‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, আমার নাম এবং ইতালির কোচের দায়িত্ব নেয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত তিক্ততার সাথে দেখেছি। আমার পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে, প্রথমে একজন ফুটবলার হিসেবে এবং এখন একজন কোচ হিসেবে, আমি সর্বদা যে দেশগুলোতে কাজ করেছি, সেখানকার আইন এবং আমার স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে মেনে আমার কাজ করেছি। সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পেশাদার সহযোগিতাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমার কাজ করার সময় শুরু হয়েছিল এবং এটি সম্পূর্ণরূপে বাণিজ্যিক-ক্রীড়াবিষয়ক। সেই সহযোগিতাকে রাজনৈতিক অর্থ দেয়া মানে আমার উপর এমন বিশ্বাস আরোপ করা যা আমি কখনও প্রকাশ করিনি এবং যা আমার মত নয়।’
‘আমি মালদিনি এবং লিওনার্দোকে তাদের দেখানো সম্মান এবং বিশ্বাসের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের যোগ্যতা, আন্তরিকতা এবং ইতালীয় ফুটবলের প্রতি সর্বদা নিবেদিত ভালোবাসা সম্পর্কে জানি। দুঃখিত যে, একটি ক্রীড়াসুলভ সিদ্ধান্তকে এতদ্রুত একটি জনবিতর্কে টেনে আনা হল। যার ফলে আমার উপর এমন সব অর্থ ও উদ্দেশ্য আরোপ করা হয়েছে যা আমার নয়। ইতালির প্রতি ভালোবাসা কোন পদের উপর নির্ভর করে না। এটি আমার ইতিহাস, আমার পরিচয়ের অংশ, এবং এটি সর্বদা আমার সাথে থাকবে।’







