সৌদিতে আহত বাংলাদেশিদের খোঁজ নিলেন এনসিপি নেতারা

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় আহত বাংলাদেশিদের খোঁজ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। এ সময় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রিয়াদে চিকিৎসাধীন আহত বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আকরাম হোসাইন সিএফের নেতৃত্বে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের সৌদি আরব শাখার নেতারা। পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন আকরাম হোসাইন।
একই দিন আহত বাংলাদেশিদের সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি। এ সময় তিনি তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
আকরাম হোসাইন সিএফ বলেন, আহত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অনেকে এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। শুরুতে দূতাবাসের কাছ থেকে সাড়া না পেলেও বর্তমানে কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
তবে আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন আকরাম হোসাইন। তিনি বলেন, সৌদি সরকার আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছে। তবে পুনর্বাসনের দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারকেও নিতে হবে।
রিয়াদ ও দাম্মামে হামলার ঘটনা বেশি ঘটছে উল্লেখ করে এসব শহরে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো বাংলাদেশি আহত বা নিহত না হন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন এই এনসিপি নেতা।
আকরাম হোসাইন বলেন, হামলার ঘটনায় বাংলাদেশি শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
এ ছাড়া ২০২৭ সাল থেকে ভিসা নবায়ন বা আকামার ফি বাড়ানোর ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশিদের জন্য আকামার ফি কমাতে সৌদি সরকারের কাছে অনুরোধ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশির জন্য দূতাবাসের জরুরি সেবা আরও সহজ করার দাবিও জানান আকরাম হোসাইন। তার ভাষ্য, বিপদে পড়লে অনেক প্রবাসী দূতাবাসের সহায়তা পেতে দেরি হওয়ার অভিযোগ করেন। ভারত ও ফিলিপাইনের দূতাবাসের মতো আরও সক্রিয় সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে প্রবাসীরা একটি ফোনকল বা বার্তার মাধ্যমে দ্রুত দূতাবাসের সহায়তা পান।






