বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ সমূহের বিষয়ে ঐক্য ও ‘জুলাই সনদ’ বিষয়ে চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন একটা অবস্থানে যেতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে একমত হতে আজ বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল মাল্টিপারপাস হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের অষ্টম দিনের আলোচনার শুরুতে আলী রীয়াজ এই আশার কথা বলেন।
আলোচনার শুরুতে জুলাই অভ্যূত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সংস্কারে জনগণের প্রত্যাশা আছে জানিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, কখনও কখনও আমরা অগ্রসর হই। কখনও কখনও আমরা যতটা অগ্রসর হতে চাই, ততটা না পারায় খানিকটা হতাশ হই। কিন্তু তারা পরেও আমরা চেষ্টা করলে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় সনদের তৈরি করার মত জায়গায় যেতে পারব।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘আজ জুলাই মাসের দুই তারিখে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে যে, আমরা চেষ্টা করলে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই একটা সনদের জায়গায় যেতে পারবো।’
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, একদিকে অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে আমরা এই জায়গায় একত্রিত হই, কেননা জুলাই আন্দোলনে আমরা আমাদের বন্ধু, সহকর্মী ও অনেক ভাই-বোনদের হারিয়েছি। অনেকেই সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন বা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। অপরদিকে তাদের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা থেকেও আমরা এখানে উপস্থিত হই।
তিনি আরও বলেন, এখানে উপস্থিত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে আমরা পরস্পরকে জানছি, বুঝছি। আমরা কাঠামোগুলোর কথা বিবেচনা করছি, সাফল্যের জন্য চেষ্টা করছি। সে কারণেই আমি আশাবাদী যে, আমরা দ্রুত ঐকমত্য গড়ে তুলে এক জায়গায় পৌঁছাতে পারবো। কেননা সেই দায় ও দায়বদ্ধতা আপনারা সকলে প্রাণ দিয়ে অনুভব করেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আশা করি আমরা অবশ্যই এ মাসের মধ্যে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি অথবা তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে এক জায়গায় পৌঁছাতে পারবো।’
আজকের আলোচনায় সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেরসহ সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। এছাড়া, কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আজকের আলোচনায় অংশগ্রহণ করছে- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজকের আলোচনায় কোন নির্দিষ্ট বাধা ধরা আলোচনার বিষয় নেই। বরং যে সকল বিষয় অমীমাংসিত থেকে গেছে, কিংবা ঐকমত্য তৈরি হয়নি, সে সব বিষয়ে আজ পুনরায় আলোচনা করা হবে।
এর আগে, দফায় দফায় বৈঠকে কমিশন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণকল্পে স্বতন্ত্র কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ দিনব্যাপী আলোচনা শেষে ব্রিফ করবেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা।
বুধবারের আলোচনার আলোচ্যসূচি হিসেবে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন প্রস্তাব নিয়ে আজ আলোচনা হবে।
ইতোমধ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে তা চলমান। সকালে আলোচনার সূচনায় জুলাইয়ে শহীদের স্মরণে ঐক্যমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলো দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করে।
আলোচনা অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করছে বাংলাদেশ টেলিভিশন-নিউজ।







