গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে জয়ী হতে পারেনি ব্রাজিল। ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে ব্রাজিল হারলে কোন অন্যায় হতো না, বরং যথার্থই হতো। ম্যাচের শুরুতেই মরক্কোর খেলায় ছিল দারুণ উত্তাপ। মাঝ মাঠটা তাদেরই দখলে ছিল। দ্রুতলয়ে গতিময় খেলা শুরু করে মরক্কো। সেই তুলনায় ব্রাজিল ছিল অনুজ্জ্বল। ফলে ২১ মিনিটেই দূরন্ত গতির মরক্কো এগিয়ে যায় ইসমায়েল সাইবারির গোলে। ব্রাজিল ছিল খানিকটা এলোমেলো। তবে ১০ মিনিট পরেই ভিনিসিয়াস বাঁ-দিক দিয়ে ঢুকে ৩২ মিনিটে যে গোল করেন সেটি ছিল অনবদ্য। গোল করার পর ব্রাজিল খেলা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে নিলেও শেষদিকে মরক্কোই আক্রমণে ছিল এগিয়ে। সাবেক তারকা ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বিরের মতে, এই ম্যাচে ব্রাজিল হেরে গেলে অবাক হওয়ার কিছুই ছিল না।
শেষমেশ ম্যাচটা ড্র হয়েছে। গ্রুপের এই সূচনা ম্যাচের মধ্যে দিয়েই মরক্কো প্রমাণ করেছে তারা কতোটা শক্তিশালী, কতোটা দাপুটে। বিশেষ করে মধ্যমাঠে তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। মরক্কোর আক্রমণাত্মক ফুটবল ফুটবলমোদীদের আনন্দে নতুন এক শিহরণ তৈরি করেছে।
এদিকে মধ্যরাতে এশিয়াবাসীর চোখ থাকবে ডালাসের দিকে। রাত ২টায় অনুষ্ঠিত হবে জাপান এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার লড়াই। ফিফা র্যাঙ্কিং অনুযায়ী জাপানের অবস্থান ১৮। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের অবস্থান ৮। গত বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে শক্তিশালী স্পেনকে হারিয়ে হৈ-হৈ ফেলে দিয়েছিল জাপান। দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়ার সাথে সমানতালে লড়ে পেনাল্টি শুটআউটে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল বিশ্বকাপ থেকে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বে পেনাল্টি শুটআউটে হেরেছিল আর্জেন্টিনার কাছে। এ ম্যাচে হারলেও হল্যান্ডের দুই গোল খেয়ে, শেষে দুই গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফিরে আসাও ছিল অনবদ্য।
গ্রুপে আজকের প্রথম ম্যাচে জাপান কী স্পেনের সাথে ম্যাচের পুনরাবৃত্তি করতে পারবে? নাকি নেদারল্যান্ডস হেসেখেলে জয়ী হবে? এমন প্রশ্নে সাবেক তারকা ফুটবলার সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালি সাব্বির বললেন, ‘এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবল দেশ জাপান। এই দেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার শক্তি কারো নেই। গত বিশ্বকাপে স্পেনকে হারানোর একটা অন্যরকম তৃপ্তি তাদের মাঝে রয়েছে। অর্থাৎ ইউরোপের দেশ বলে কোন ভয় নেই। ফলে নেদারল্যান্ডসকে তারা পরাজিত করার লক্ষ্য নিয়েই নামবে। জাপান একবিন্দু ছাড় দেবে না। জাপানে বেশ কয়েকজন ফুটবলার রয়েছে যারা খুবই উঁচুমানের ফুটবলার।’
নেদারল্যান্ডস প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘এই দলে মেসি, রোনালদো, নেইমার বা কাইলিয়ান এমবাপের মতো কোন বিশ্বখ্যাত তারকা ফুটবলার নেই। কিন্তু তাদের দলগতভিত্তি খুব শক্ত। গত বিশ্বকাপে সেটা দেখা গেছে। সম্মিলিত আক্রমণে এই দলটি চমৎকার। স্মরণে আছে আর্জেন্টিনা কিন্ত অবশেষে কোয়ার্টার ফাইনালে অনেকটা সৌভাগ্যবশত জিতেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘হল্যান্ড নিঃসন্দেহে নান্দনিক ফুটবল খেলে। তাদের ফুটবল ঐতিহ্য চকচকে। কোচ রোনাল্ড কোম্যান আজকেই চমক দিতে চাইবেন। কিন্তু জাপানও ভীষণরকম মারকুটে দল। দ্রুত পাস আদান-প্রদানে তারা সেরা। আর এখন এশিয়ান দলগুলো তো সেই আগের মতো নেই। ইউরোপ ভীতি কেটে গেছে বহু আগেই। সে প্রমাণ প্রথম ম্যাচে সাউথ কোরিয়াও রেখেছে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে কাতার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করেছে। এসবই কিন্ত এশিয়ান দলগুলোর উত্থান।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘জাপান টিমে ইনজুরি সমস্যা রয়েছে। তবে কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বরাবরই ভালো এক চিন্তক। জাপান ভালো ফুটবল খেলুক এটি আমি মনে-প্রাণে চাই। জাপান অসম্ভবকে কিন্ত অনেকবারই সম্ভব করেছে।’







