বিগত বছরগুলোর মতোই এবারও সংস্কৃতি খাতে সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের অভিভাবক সংগঠন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।
বাজেট পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংস্কৃতি খাতে সরকারের এবারের বাজেট নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। যদিও এ বছর সংস্কৃতি খাতে প্রস্তাবিত বাজেটে গেল বছরের তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা বেড়েছে।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে ৭৭৯ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত অর্থবছরে এই খাতে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১৫ কোটি টাকা বেশি। গত অর্থবছরে এ খাতে প্রস্তাবিত বাজেট ছিলো ৬৯৯ কোটি টাকা, এবং সংশোধিত বাজেট ছিলো ৭৬৪ কোটি।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এ তথ্য জানান।
বরাবরই সংস্কৃতি খাতে মোট বাজেটের ১ শতাংশ দাবি করে এসেছে সংস্কৃতিকর্মীরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর সংস্কৃতি খাতে বাজেট অল্প বাড়লেও চ্যানেল আই অনলাইনকে গোলাম কুদ্দুছ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন,“সরকারের যে নির্বাচনী ইশতেহার, সে অনুযায়ি সামগ্রিকভাবে আমাদের একটি দাবি ছিলো। ইশতেহারে দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা ছিলো। তারজন্য নীতি নৈতিকতা, মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করে একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিবাদী আদর্শবাদী নাগরিক তৈরী করার জন্য সংস্কৃতির যে ভূমিকা, এবং তার জন্য যে বাজেট প্রয়োজন- সেটার দাবি আমরা জানিয়ে এসেছি। কিন্তু কার্যত সরকারের সংস্কৃতি খাতের বাজেট ঘোষণায় তার প্রতিফলন আমরা দেখছি না।’
“উপজেলা পর্যায়ে মিলনায়তন, মুক্তমঞ্চ নির্মাণ, জেলা পর্যায়ে আধুনিক মিলনায়তন নির্মাণ, রাজধানীতে বিভিন্ন অঞ্চলে মিলনায়তন নির্মাণ- এগুলোতো ঘোষিত বাজেটে প্রতিফলন নেই। প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা যেমন লাগবে, একইভাবে গ্রাম থেকে রাজধানী পর্যন্ত একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ গড়ে তুলবার জন্য তরুণ নবীন সংস্কৃতিকর্মীদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে যে প্রশিক্ষণ দরকার- তারজন্য শিল্পকলার সব বিভাগে উপজেলা-জেলা পর্যায়ে স্থায়ী প্রশিক্ষক নিয়োগ- কিন্তু সেগুলোরও তো কোনো লক্ষণ বাজেটে নেই। তাহলে সংস্কৃতি কীভাবে বিকশিত হবে?”-বাজেট ঘোষণার পর এমন প্রশ্নই রাখেন গোলাম কুদ্দুছ।
এসময় তিনি বলেন, জেলা উপজেলার কথা তো বাদই দিলাম। রাজধানী শহরের দিকে তাকালে দেখবেন, দেড় কোটি মানুষের জন্য এখানে মিলনায়তন আছে চারটি। মিরপুর-পল্লবীতে ষাট লক্ষ মানুষ বাস করে, সেখানে একটি মিলনায়তন নেই। তাহলে কীভাবে সাংষ্কৃতিক জাগরণ করবেন? শুধু সংস্কৃতিকর্মীদের গালি দিবেন, কেন দেশে মৌলবাদীদের উত্থান হচ্ছে, নারী নির্যাতন হচ্ছে- এগুলো কেন সংস্কৃতিকর্মীরা রুখতে পারে না! কীভাবে পারবে সংস্কৃতি কর্মীরা, তাদেরকে আপনি কী দিচ্ছেন?
আশা প্রকাশ করে এসময় তিনি আরও বলেন,‘আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে এসেছি, সংস্কৃতির যে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বাংলার সার্বজনিন সংস্কৃতি হুমকির মুখে পড়বে- তার জন্য সংস্কৃতি খাতকে উপেক্ষার কোনো সুযোগ নেই। এখনো বাজেট পাশ হয়নি, সংস্কৃতি খাতে সরকারের আরো বেশী মনোযোগ আমরা আশা করবো।’








