সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের স্ত্রী ন্যান্সি কিসিঞ্জার মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ অগাস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সাউথ কেন্টে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
শুক্রবার (২১ অগাস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট এবং একাধিক সংবাধমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করে।
পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রথম এ খবর প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস।
ন্যান্সি কিসিঞ্জারের মৃত্যুতে সাবেক নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মাইক ব্লুমবার্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, ন্যান্সি ছিলেন অসাধারণ চিন্তাশক্তি ও অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী। সরকার, দাতব্য কাজ এবং হেনরি কিসিঞ্জারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা হিসেবে তিনি এসব কাজে নিজের দক্ষতা ব্যবহার করেছেন।
ব্লুমবার্গ আরও বলেন, ন্যান্সি ছিলেন একজন অসাধারণ কূটনীতিক। তিনি একই সঙ্গে বিচক্ষণ ও গোপনীয়তা রক্ষায় দক্ষ ছিলেন। হেনরি কিসিঞ্জার তাকে কতটা ভালোবাসতেন ও সম্মান করতেন, সেটিও তিনি উল্লেখ করেন।
ন্যান্সি কিসিঞ্জার কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কূটনীতিক ছিলেন না। তবে স্বামীর সঙ্গে তিনি রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক সফরে অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে হেনরি কিসিঞ্জারের বৈঠক ও অনুষ্ঠানে তাকেও প্রায়ই দেখা যেত।
হেনরি ও ন্যান্সি কিসিঞ্জারের কোনো সন্তান ছিল না। তবে রিপাবলিকান সরকারের সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ, দূতাবাসের অনুষ্ঠান এবং হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন আয়োজনে তারা নিয়মিত অংশ নিতেন।

স্বামীকে রক্ষায় ছিলেন দৃঢ়
স্বামী হেনরি কিসিঞ্জারের প্রতি ন্যান্সি ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থানের জন্য পরিচিত।
১৯৮২ সালে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমনই একটি ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি হেনরি কিসিঞ্জারকে উত্ত্যক্ত করলে ন্যান্সি তাকে গলা ধরে আটকে সতর্ক করেছিলেন বলে জানা যায়।
ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ছোটখাটো হামলার অভিযোগ আনা হয়। তবে পরে একজন বিচারক তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেন।
বিচারক বলেন, ন্যান্সির ওই আচরণ ছিল আপত্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া। একই সঙ্গে তিনি স্বামীর শারীরিক অবস্থার বিষয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন।
ঘটনার সময় হেনরি কিসিঞ্জার হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের জন্য বোস্টনে যাচ্ছিলেন।
বিশ্বনেতাদের নজর কাড়তেন উচ্চতার কারণে
ন্যান্সি কিসিঞ্জারের উচ্চতা ছিল প্রায় ছয় ফুট। ফলে স্বামী হেনরি কিসিঞ্জার এবং বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী নেতার পাশেও তাকে বেশ লম্বা দেখাত।
১৯৭৫ সালে চীনের তৎকালীন নেতা মাও সেতুংয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকেও তার উচ্চতা নিয়ে মাও বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও আলোচনায় আসে।
১৯৭৪ সালে হেনরি কিসিঞ্জার ও ন্যান্সি কিসিঞ্জার বিয়ে করেন। সে সময় হেনরি কিসিঞ্জার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
অন্যদিকে ন্যান্সি তৎকালীন নিউইয়র্কের গভর্নর নেলসন রকফেলারের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিলেন। রকফেলারই তাদের দুজনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।










