ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে গতিঝড় তুলে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন নাহিদ রানা। একের পর এক উইকেট শিকার করে সফরকারীদের বিধ্বস্ত করেছেন টাইগার পেসার। পরে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘুর্ণিতে ধস বাড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে। শেষদিকে ফাহিম আশরাফের ব্যাটে ভর করে শতরানের গন্ডি পর হলেও বাংলাদেশের সামনে কেবল ১১৫ রানের লক্ষ্য দাঁড় করাতে পেরেছে শাহিন শাহ আফ্রিদির দল।
মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের খেলা ডাচ-বাংলার সৌজন্যে সরাসরি দেখাচ্ছে ওটিটি প্লাটফর্ম আইস্ক্রিন, ধারাভাষ্য প্রচার করছে রেডিও ভূমি।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাহিদ রানা ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন। চাপাইনবাবগঞ্জ এক্সপ্রেসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং এটি। আগে ৫ ওয়ানডে খেলে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন। যার মধ্যে ২০২৪ সালে শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪০ রানে ২ উইকেট ছিল সেরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ফাইফারের কীর্তি গড়লেন নাহিদ। তার আগে ২০১৯ সালে লর্ডসে ১০ ওভারে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩০.৪ ওভার ব্যাট করে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী দলটি।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন সংগ্রহের রেকর্ড এটি। আগে সর্বনিম্ন ১৬১ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে বাংলাদেশের দেয়া ২২৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ৬২ রানে হার দেখেছিল পাকিস্তান। এছাড়া আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন ১৭১ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ৫৮ রানে হার দেখেছিল স্বাগতিকরা।

পাকিস্তানের শুরুটা খারাপ হয়নি। উদ্বোধনীতে ৪১ রান তোলেন সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। দশম ওভারের শেষ বলে প্রথম সাফল্য পায় টিম টাইগার্স। ফারহানকে ফেরান নাহিদ। ৪ চারে ৩৮ বলে ২৭ রান করেন পাকিস্তানের অভিষিক্ত ওপেনার।
এরপর ছন্দপতন ঘটে পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপে। নাহিদ রানার গতিঝড় সামাল দিতে না পেরে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে তারা। টানা ৫ ব্যাটারকে ফেরান নাহিদ। ৬৯ রানে ৫ উইকট হারানোর পথে চাপে পড়ে সফরকারী দল।
চাপ সামাল দেয়ার আগেই তাদের চেপে ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরপর ৩ উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৮১ রানে ৮ উইকেট হারায় দলটি। ১ রান যোগ করতে আরও এক উইকেট হারায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। শেষদিকে ফাহিম আশরাফের ব্যাটে ভর করে ১১৪ রানের সংগ্রহ গড়তে পারে। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ বলে ৩৭ রান করেন ফাহিম।
বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল দুজন দুঅঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। সাদাকাত ১৮, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১০ রান করেন।
নাহিদের ফাইফারের পাশাপাশি ৩ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। টাইগার অধিনায়ক ১০ ওভারে ২৯ রান খরচ করেন। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান নেন ১টি করে উইকেট।







