জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির অধীন সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের উদ্যোগে ‘স্টেয়িং সেইফ অনলাইন: প্রোটেক্ট ইয়োরসেলফ ফ্রম সাইবার ক্রাইম’ শীর্ষক এক দিনব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রায় ১৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুলতানা মাহমুদা ইয়াসমিন। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা এবং পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মাহবুবুল আলম, পিপিএম বর্তমান সময়ের সাইবার অপরাধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি, অনলাইন প্রতারণা, তথ্য সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের সেক্রেটারি মো. দেলোয়ার হোসাইন সামি ক্লাবের কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এবং তরুণদের মধ্যে সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সেমিনারের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইন্টারঅ্যাকটিভ কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের মাঝে বই পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং সচেতন নাগরিকরাই একটি শক্তিশালী ‘হিউম্যান ফায়ারওয়াল’ গড়ে তুলতে পারেন। তাই শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করে তোলাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মো. মহিবুল হাসান বলেন, তাদের লক্ষ্য শুধু একটি সেমিনার আয়োজন নয়, বরং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দেশের ২ হাজার ৩০০টিরও বেশি কলেজে ধারাবাহিকভাবে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে সাইবার নিরাপত্তার একটি শক্তিশালী বেষ্টনী গড়ে তুলতে চাই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের সদস্যরা দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও আন্তরিকতার মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। ভবিষ্যতে সরকার বা যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে আমাদের সদস্যরা পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে সাইবার হুমকি সম্পর্কে সচেতন করা, নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা এবং জাতীয় পর্যায়ে সাইবার সচেতনতা বিস্তারে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়নে ক্লাবটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি কলেজে সাইবার সচেতনতা কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করে যাবে সংগঠনটি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সচেতন ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তারা কাজ করে যাবে।







