ময়মনসিংহে সত্যজিৎ রায়ের পূর্ব পুরুষদের বাড়ি ভাঙার বিষয়টি অপপ্রচার ছিল বলে জানান শিশুতীর্থ আনন্দধ্বনি সংগীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. মামুনুল ইসলাম।
বুধবার (১৬ জুলাই) এক বক্তব্যে তিনি একথা জানান।
মামুনুল ইসলাম বলেন, “ময়মনসিংহে শিশু একাডেমির জন্য নির্ধারিত স্থানের পুরাতন একটি ভবন ভাঙা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।”
তিনি বলেন, “যতটুকু জানি এই বাড়িটির সঙ্গে সত্যজিৎ রায়দের কোন সম্পর্ক নেই। এই বাড়িটির তেমন কোন শক্তিশালী ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও নেই। পূর্বে বাড়িটি জমিদার শশীকান্ত বাবুর কর্মচারীদের আবাসস্থল ছিলো। অথচ আমাদের কিছু সাংবাদিক, তাদের মারফতে জাতীয় কিছু পত্রিকা এবং অতি উৎসাহী ফেসবুক এক্টিভিস্টের কারণে বিষয়টি স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাড়িটি বহু আগেই ব্যবহার অযোগ্য এবং ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় এটি ভেঙে শিশু একাডেমির ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। কয়েকবার প্রস্তুতি নিয়েও ভবন নির্মাণ পিছিয়ে যায় নানা কারণে। এবার বরাদ্দ পাওয়ার পর নতুন ভবন নির্মাণ শুরুর প্রক্রিয়া হিসেবে ভঙ্গুর ঝুকিপূর্ণ ভবনটি ভাঙা শুরু হলে না জেনে বুঝেই কিছু মানুষ সরব হয়ে ওঠে ভবনটি নিয়ে।”
তিনি বলেন, “এই বাড়ি ভাঙা নিয়ে দেশে এবং দেশের বাইরে আন্তর্জাতিকভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, ভারতের আন্দবাজার পত্রিকাসহ বেশ কিছু পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট হয় যেখানে নানা ভাবে প্রচার হচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের পূর্ব পুরুষদের বাড়ি ভেঙে ফেলছে বাংলাদেশ সরকার।”
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়টি নিয়ে কড়া সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় সরকারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ করেছেন বলেও জানা যায়।
মামুনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের জানা শোনার কমতি এবং ভুল তথ্য উপস্থাপনের কারণে আমরা সত্যজিৎ রায় নিয়ে আন্তজার্তিকভাবে হেয় হলাম।”
কোন বিষয়ে তথ্য প্রচারের আগে মনগড়া কথা না বলে তথ্য সংগ্রহ করে এবং তা যাচাই করে প্রচার করা সমীচীন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কালি ও কলম পত্রিকায় সত্যজিৎ রায়ের পৈত্রিক বাড়ি বিষয়ে আলোচনায় রয়েছে, ‘ময়মনসিংহ শহরে হরিকিশোরের এক বিশাল দোতলা বাড়ি ছিল। তার সামনে ছিল মস্ত ফুটবল মাঠ।’
‘আবার সরকারি ওয়েবসাইটে ময়মনসিংহ জেলার পুরাকীর্তি এবং স্থাপনা বিষয়ক তথ্যে রয়েছে, হরিকিশোর রায় রোডের এ বাড়িটি সত্যজিৎ রায়ের প্রপিতামহ হরিকিশোর রায়ের বাড়ি। বাড়ির আদি নাম ‘পূণ্যলক্ষ্মী ভবন’ বর্তমান পরিবর্তিত নাম ‘দুর্লভ ভবন’। বাড়িটি বর্তমানে কমিউনিটি সেন্টার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে’ বলেও জানান তিনি।
মামুনুল বলেন, সুতরাং উপরে উল্লেখিত দুটি তথ্য থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, বর্ণনায় পাওয়া সত্যজিৎ রায়দের পূর্ব পুরুষদের বাড়ি আর শিশু একাডেমির জন্য নির্ধারিত স্থানের বাড়ি একই বাড়ি নয়।
মামুনুল ইসলাম বলেন, “আমি আমার প্রয়াত শিক্ষক প্রফেসর ড. আ.বা.ম. নূরুল আনোয়ারের কাছে সত্যজিৎ রায়ের পূর্ব পুরুষের বাড়ি হিসেবে যে বাড়ির কথা শুনেছি, সেখানে বর্তমানে বহুতল ভবন তৈরি হয়েছে। নূরুল আনোয়ার স্যার ময়মনসিংহের সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞ মানুষ ছিলেন। বহু আগেই বাড়িটি ভেঙে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন নির্মাণ হয়েছে। এই বিষয়ে কোনদিন টু শব্দ শুনিনি।”
বর্তমান যে ভবনটি ভাঙা হচ্ছে, তার অবস্থা এতোই করুণ যে এটি ভেঙে ফেলা ছাড়া উপায় নাই। এটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করে শিশু কিশোরদের বিকাশে শিশু একাডেমি কার্যক্রম পরিচালনা করলেই বরং ময়মনসিংহ শহরের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপকারী হবে বলে জানান আনন্দধ্বনি সংগীত বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ।







