দেশের সকল মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির অধিকার নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন এবং এ লক্ষ্যে আগামী দিনের কর্মসূচি নির্ধারণে দুই দিনব্যাপী ‘খানি বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খানির সভাপতি ড. জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ১০ ও ১১ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে খানি বাংলাদেশের পঞ্চাশটির অধিক সদস্য সংগঠন, অধিকারকর্মী, গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।
দেশের খাদ্যব্যবস্থার বর্তমান সংকট, খাদ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি, কৃষকের ন্যায্যমূল্য, নারী কৃষকের স্বীকৃতি, কৃষি ও ভূমি সংস্কার, সামাজিক সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, নিরাপদ খাদ্য, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় আলোচকেরা বলেন, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষকের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, ভূমি ও উৎপাদন উপকরণে অসম প্রবেশাধিকার, বাজারের ওপর প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ুজনিত ক্ষতি দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে ক্রমেই চাপে ফেলছে। বিশেষ করে নারী, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, বর্গাচাষি এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এসব সংকটে তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দুই দিনের এ সভায় দেশের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অধিকারকর্মী, গবেষক ও উন্নয়ন সহযোগীরাও অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফিয়ান ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া সমন্বয়ক সাবিন পাবস্ট, এবং থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের জ্যেষ্ঠ গবেষক রঞ্জা সেনগুপ্ত।
সভায় অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন, কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সাত্তার মণ্ডল বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ ও খানি সদস্যরা।
প্রথম দিনের অধিবেশনগুলোতে খাদ্য ও পুষ্টির অধিকারের সাংবিধানিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক ভিত্তি, রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা, কৃষি সংস্কার, কৃষকের অধিকার, উৎপাদনশীল সম্পদে প্রবেশাধিকার, নারী ও প্রান্তিক কৃষকের স্বীকৃতি, কৃষিতে ন্যায়সংগত রূপান্তর এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কৃষিচুক্তির প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। একই দিনে খানি বাংলাদেশের বিগত বছরের কার্যক্রম, প্রচারাভিযান ও চলমান উদ্যোগ পর্যালোচনা করা হয়।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় টেকসই কৃষি রূপান্তরে পরিবেশসম্মত কৃষিব্যবস্থা, দেশের কৃষিনীতির ঘাটতি ও বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ, খানির ভবিষ্যৎ কর্মঅগ্রাধিকার এবং সংগঠনের প্রভাব সৃষ্টির রূপরেখা চূড়ান্তকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সদস্য সংগঠনগুলোর দক্ষতা, ভৌগোলিক উপস্থিতি, গবেষণা ও তথ্যভিত্তি, গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের সুযোগ চিহ্নিত করা হয়।
খানি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংগঠনটির কার্যকারিতা সদস্যদের সক্রিয় নেতৃত্ব, যৌথ দায়িত্ব, নিয়মিত সমন্বয় এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে আগামী তিন বছরে নীতি-অধিপরামর্শ, সংসদীয় সম্পৃক্ততা, জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, গবেষণা, গণমাধ্যম কার্যক্রম, শেখা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সদস্যদের সম্মিলিত উদ্যোগকে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সভা থেকে খাদ্য ও পুষ্টির অধিকারবিষয়ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সদস্য সংগঠনগুলোর সক্ষমতার মানচিত্র তৈরি, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের চিহ্নিত করা, খানির প্রভাব সৃষ্টির রূপরেখা চূড়ান্ত করা এবং দায়িত্ব ও সময়সীমাসহ ৩৬ মাসের প্রচারাভিযান ও জনসম্পৃক্ততা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
খানি বাংলাদেশ খাদ্য ও পুষ্টির অধিকার, কৃষকের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং ন্যায়সংগত খাদ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করা নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক।








