ঢাকায় হত্যা, নীলফামারীতে লাশ গুম: রাকিব হত্যায় গ্রেপ্তার ১

ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসেছিলেন ১৭ বছর বয়সী রাকিবুল ইসলাম। শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থেকে ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর পরিচিত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন রাকিব।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর শুক্রাবাদের একটি বাসায় রাকিবকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ কার্টনে ভরে নীলফামারীর ডিমলায় নিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যেতে বলা হয়। সেখান থেকে তাকে শুক্রাবাদের একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট চার লাখ টাকা পাঠান।
তবুও রাকিবের কোনো সন্ধান না পেয়ে তাঁর বড় ভাই জহুরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সেই জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের ব্যবহারকারী আবদুল্লাহ আল মামুন। গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ঢাকায় আসার পর রাকিব একাধিকবার তাঁর বাসায় যান। সর্বশেষ ১৬ সেপ্টেম্বর বাসায় গেলে মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ঘাড়ে আঘাতের পর রাকিব মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রাকিবের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন মামুন। টাকা পাওয়ার পর তিনি ব্যবহৃত নম্বরগুলো বন্ধ করে দেন।
পুলিশ জানায়, মরদেহ গুম করতে একটি কার্টনের মধ্যে রাকিবের লাশ ঢোকানো হয়। পরে স্কচটেপ দিয়ে কার্টনটি এমনভাবে মুড়ে দেওয়া হয়, যাতে বাইরে থেকে ভেতরে মরদেহ থাকার বিষয়টি বোঝার উপায় না থাকে। এরপর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় অটোরিকশায় করে কার্টনটি গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়।
সেখান থেকে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে কার্টনটি নীলফামারীর ডিমলায় নিয়ে যান মামুন। ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়ির সামনে একটি সুপারিবাগানে গর্ত করে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়।
মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর বিকেলে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগানে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে কার্টনের ভেতর থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মুক্তিপণের চার লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাকে বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, মুক্তিপণের অর্থের লেনদেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





