অপরাধ

স্ত্রী পরিচয়ে আদালতে ২২২ জনের নামে হত্যা মামলা

অন্ধকারে পড়ে থাকা হাতের ছবি, রহস্যময় ও উদ্বেগজনক দৃশ্য. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

অন্ধকারে পড়ে থাকা হাতের ছবি, যা রহস্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৪ আগস্ট ঢাকায় গুলিতে নিহত ফেনীর সোনাগাজীর আব্দুল গণির স্ত্রী পরিচয়ে ২২২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ জুলাই ঢাকার মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহানা আক্তার নামের এক নারী মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মী, ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক নঈম নিজাম, শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবুসহ মোট ১০ জন সাংবাদিকের নামও আসামির তালিকায় রয়েছে। তালিকায় সোনাগাজীর পালগিরি গ্রামের ২৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তদন্তে দেখা যায়, বাদি হিসেবে পরিচয় দেওয়া সোহানা আক্তারের ঠিকানা শনাক্ত করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়। সিংগাইর থানার পুলিশ জানায়, বর্ণিত ঠিকানায় ওই নাম–পরিচয়ের কাউকে পাওয়া যায়নি এবং কেউ তাকে চিনেনও না। বাদিপক্ষের আইনজীবীর কাছ থেকেও তার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি।

পুলিশি তদন্ত বলছে, শহীদ আব্দুল গনি সোনাগাজী উপজেলার ছাড়াইতকান্দি গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে। তিনি ঢাকার বাংলামোটর শাখার সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্সে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি চরছান্দিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ সেলিমের মেয়ে আয়েশা আক্তার পপিকে বিয়ে করেন।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ৪ আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে বাংলামোটর মোড় হয়ে ইস্কাটন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দিকে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ৩০২ ধারায় মামলাও রুজু হয়। নিহতের পরিবার এবং তার কর্মস্থলের সহকর্মীরা জানান, তারা আগে কোনো মামলা করেননি।

মামলার বাদি যে কাওরানবাজার–ফার্মগেট এলাকার ফুটওভার ব্রিজের নিচে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন, পুলিশ তদন্তে তার কোনো প্রমাণ পায়নি। বরং সব তথ্য বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয়েছে যে ঘটনাস্থল ছিল বাংলামোটর–ইস্কাটন এলাকা।

পালগিরি গ্রামের একাধিক আসামি জানান, মামলার বিষয়টি তারা জানতেনই না; বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তারা কেউই ঢাকায় ছিলেন না। অনেকেই দাবি করেন, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে স্থানীয় কুচক্রীমহল তাদের নাম জড়িয়েছে। আসামির তালিকায় থাকা গোলাম সরওয়ার মাসুম দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বলেও জানা গেছে।

এছাড়া তদন্তে দেখা যায়, আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ইফতেখার হোসেন জুয়েল গত বছর ফেনীর মহিপালে আওয়ামী লীগ কর্মীদের গুলিতে নিহত শহীদ মাসুম হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই দিনে তিনি ঢাকার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন—এ দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন, সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করা এবং ব্যক্তিগত বৈরিতার কারণে গ্রামবাসীর নাম মামলার তালিকায় যোগ করা হয়েছে। অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ বা গত দুই বছর ঢাকায় যাননি বলেও তারা জানান।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলেও গত ৩০ অক্টোবর নির্ধারিত দিনে আদালত কোনো আদেশ দেননি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান গেজেটে প্রকাশিত শহীদের তালিকায় আব্দুল গণির নাম ৪১২ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিষয়:বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…