ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে প্রস্তুত উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদ। প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে লাখো মানুষ মাশহাদের সড়কে সমবেত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনের মধ্য দিয়ে ইরাক ও ইরানের বিভিন্ন পবিত্র নগরীতে ছয় দিনব্যাপী চলমান রাষ্ট্রীয় ও শোকানুষ্ঠান শেষ হতে যাচ্ছে।
মাশহাদের গভর্নর হাসান হোসেইনি জানিয়েছেন, বিদায়ী এই অনুষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও লাখো শোকার্ত জনতা লাল পতাকা হাতে মশহাদের রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় খামেনির কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানায় লাখ লাখ মানুষ।
ইরাকি পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের তথ্যমতে, কেবল নাজাফেই ২৩ লাখের বেশি মানুষ এই শোকমিছিলে অংশ নেয়। ইরাক সীমান্ত থেকে মাশহাদের দূরত্ব প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার হওয়ায় এবং জনগণের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে পূর্বনির্ধারিত সকাল ৬টার অনুষ্ঠান পিছিয়ে দুপুর ২টায় নির্ধারণ করা হয়।
এসময় অনেককে ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে দেখা গেছে। আবার কিছু মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান সংবলিত প্ল্যাকার্ডও বহন করছেন।
এর আগে গত বুধবার বিকেল থেকেই মশহাদের সড়কগুলো আমেরিকা নিপাত যাক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে মেট্রো স্টেশন, সব জায়গাই ঢেকে গেছে কালো ব্যানারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইরাকের শোকানুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।







