বাংলাদেশ

শিশু সুরক্ষায় সংবাদমাধ্যমকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সংবাদমাধ্যমের গুরুত্ব. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবিতে শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য সাংবাদিকতা ও মিডিয়া কর্মীদের ভূমিকা ফুটে উঠেছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

শিশু সুরক্ষা ও প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং গণমাধ্যমকে আরও সমন্বিত ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, শিশুদের নিয়ে শুধু ঘটনাভিত্তিক সংবাদ নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক, অনুসন্ধানী ও সমাধানমুখী সাংবাদিকতা। এ ধরনের প্রতিবেদন জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নীতিনির্ধারণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধ, শিশুর সার্বিক বিকাশ ও সুরক্ষা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের মিডিয়া নীতিনির্ধারক ও গেটকিপারদের সঙ্গে এক পরামর্শ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ সভায় সহযোগিতা করে সিনারগোস।

সভায় সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামান বলেন, শিশুর জন্মের আগে থেকে বেড়ে ওঠার প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ, সরকার ও গণমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও কার্যকর বাস্তবায়নে এখনও ঘাটতি রয়েছে।

মাসরুরুজ্জামান বলেন, কয়েক বছর আগেও পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর খবর শুধু ঘটনাভিত্তিক প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী, বিশ্লেষণধর্মী ও সমাধানমুখী প্রতিবেদন বাড়ছে। এর ফলে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিতেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি শিশু অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়গুলোকে গণমাধ্যমের নিয়মিত অগ্রাধিকারে রাখার আহ্বান জানান।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সিনারগোসের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার রিজওয়ানুল হক খান বলেন, এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক শিশু যত্ন কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের প্রথম ধাপে দুই লাখের বেশি শিশু সেবা পেয়েছে এবং প্রায় ৫০০ শিশু সফলভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। এসব শিশুর আত্মবিশ্বাস, সামাজিক দক্ষতা ও শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

রিজওয়ানুল হক খান বলেন, প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পরও আট হাজার কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় দুই হাজার কেন্দ্র স্থানীয় উদ্যোগে কোনো আর্থিক সহায়তা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে, যা প্রকল্পটির গ্রহণযোগ্যতা ও স্থায়িত্বের ইতিবাচক উদাহরণ।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির নতুন প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সিনারগোস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর এশা হুসাইন, আইসিবিসি প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, চৌধুরী ও চরচা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হোসেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সম্পাদকরা বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, শিশু সুরক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিবেদনও সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু, শিশুর বিকাশ ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয়, ধারাবাহিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০ জেলার ৭৯ উপজেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। প্রায় সাত লাখ শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং প্রায় তিন লাখ শিশুকে কমিউনিটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ কার্যক্রমে প্রায় ১৩ হাজার চাইল্ড কেয়ার সেন্টার ও ২৬ হাজার কেয়ারগিভার যুক্ত থাকবেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা শিশু সুরক্ষা, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ ও পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

বিষয়:শিশু সুরক্ষা শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ সংবাদমাধ্যম সমষ্টি সাঁতার প্রশিক্ষণ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…