কক্সাবাজার-১ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী ও জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাছে আবেদন জানিয়েছেন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ।
গতকাল ২৭ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জনপ্রতিনিধিরা লিখেছেন, আমরা কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ। আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
একই সাথে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীকে একটি নিরপেক্ষ, অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে অঙ্গীকারবন্ধ ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমরা সে লক্ষে নিজ নিজ এলাকায় আমাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কাজ করে যাচ্ছি। একই সাথে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটারকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। যা পরোক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যের সহায়ক।
কিন্তু পরিতাপের সাথে জানাচ্ছি যে, বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক গাড়ী প্রতীক নিয়ে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করছেন। তার বিপরীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান হাতঘড়ি প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য পদে একই আসনে প্রতিদন্দী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এমতবস্থায়, বর্তমান সংসদ সদস্য ও ট্রাক গাড়ী প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলমের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা কাজ না করায় এবং বিপক্ষের হাতঘড়ি মার্কার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ করায় তিনি নিজে এবং তার গঠিত নিজস্ব সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী অবৈধ অস্ত্রের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে গুম ও হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও তার উচ্ছৃঙ্খল কর্মী বাহিনী হাতঘড়ি প্রতীকের নির্বাচনী পোষ্টার, ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুন ছিড়ে ফেলছে।
এমনকি ব্যানার, পোষ্টার, ফেস্টুন লাগাতেও বাধা দিচ্ছে। এর তথ্য নির্ভর প্রমাণ রয়েছে। যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহান সংবিধানে উল্লেখিত মৌলিক অধিকারের সুষ্পষ্ট লংঘন। তাছাড়া এ ধরনের হুমকি প্রদর্শন, চাপ প্রয়োগসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিড়ে ফেলা ও লাগাতে বাধা দেয়ার মত অপতৎপরতা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায় এবং আমরা জনপ্রতিনিধিগণও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অতএব, এমন ভীতিকর পরিস্থিতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনের সংশয় দূর করতে কক্সবাজার-১ আসনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বিধান ও হয়রানি রোধে উল্লেখিত অভিযোগ যাচাই করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
এই আবেদনপত্রে সাক্ষর করেছেন ১৫ জন জনপ্রতিনিধি। তারা হলেন, ফজলুল করিম (চেয়ারম্যান, চকরিয়া উপজেলা পরিষদ), জাহাংগীর আলম (চেয়ারম্যান, পেকুয়া উপজেলা পরিষদ), আলমগীর চৌধুরী (মেয়র, চকরিয়া পৌরসভা পরিষদ), উম্মে কুলসুম (ভাইস-চেয়ারম্যান, পেকুয়া উপজেলা পরিষদ), আবু তৈয়ব (সদস্য, ককক্সবাজার জেলা পরিষদ), আজিমুল হক (চেয়ারম্যান, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ), শাহাব উদ্দিন (চেয়ারম্যান, কাকারা ইউনিয়ন পরিষদ), মনজুরুল কাদের (চেয়ারম্যান, বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ), খ.ম. আওরঙ্গজেব বুলেট (চেয়ারম্যান, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদ), নুরে হোছাইন আরিফ (চেয়ারম্যান, বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদ), জাহাঙ্গীর আলম (চেয়ারম্যান, বি.এম.চর ইউনিয়ন পরিষদ), মঈন উদ্দিন আহমেদ (চেয়ারম্যান, ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ), নজরুল ইসলাম বাবুল (চেয়ারম্যান, রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ), ইউনুছ চৌধুরী (চেয়ারম্যান, মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ), বদিউল আলম (চেয়ারম্যান, বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদ)







