এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
শিক্ষকদের নিজেদের প্রাপ্য অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হওয়াকে জাতির জন্য দীনতা-হীনতা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যারা নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম গড়ে তোলেন, তাদেরই যদি নিজেদের টাকা পেতে ঘুষ দিতে হয় কিংবা দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের ব্যর্থতার প্রকাশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, অতীতে অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা তুলতে শিক্ষক-কর্মচারীদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য অর্থ পেতে তাদের ঘুষ দেওয়ার অলিখিত নিয়মও পালন করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক বর্তমান সরকার কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসর ও কল্যাণ তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিয়মিত অর্থ জমা দেন এবং এর সঙ্গে সরকারও নির্দিষ্ট হারে অর্থ দেয়। চাকরিজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় শিক্ষকরা যাতে একটি ভালো পরিমাণ অর্থ হাতে পান, সেটিই ছিল এই তহবিল গঠনের মূল উদ্দেশ্য। এবারের অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষকের জীবনে কিছুটা হলেও আর্থিক অনিশ্চয়তার অবসান হবে। সামগ্রিকভাবে ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তার উদ্যোগে ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দুটি তহবিল গঠনে সরকারি অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে তিনি এর ভিত্তি শক্তিশালী করেছিলেন। খালেদা জিয়ার চালু করেন শিক্ষা উপবৃত্তি ও নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ। এসব উদ্যোগ শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তা অনুসরণ করা হয়েছে।
অবসর ও কল্যাণ তহবিলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আগের সরকারের সময়ে সংঘটিত অনিয়ম ও লুটপাটকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী। তার অভিযোগ, জাল ইনডেক্স তৈরি, দুর্বল ব্যাংকে তহবিলের অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নষ্ট করার মাধ্যমে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ২০২২ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তহবিল থেকে অর্থ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিলেও তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এই অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে।
ভবিষ্যতে অবসর ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ তুলতে কোনো শিক্ষককে আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, শিক্ষকরা সারা জীবন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলেছেন। তাই চাকরিজীবন শেষে তাদের যেন আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।








