রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

রাজধানীর পশুর হাটে ট্রাক ও কাঠামো প্রস্তুত, শ্রমিকরা কাজ করছেন, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
আগামী ১৭ জুন (সোমবার) দেশে পালন হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় বসছে ২০টি কোরবানির পশুর হাট। এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১১টি অস্থায়ী ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ৯টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। এছাড়া উত্তর সিটির অন্তর্গত গাবতলী ও দক্ষিণ সিটির অন্তর্গত শারুলিয়ার স্থায়ী হাট যুক্ত হবে। মোট পশুর হাট থাকবে ২২টি।
কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এসব হাটে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আনা হবে লাখ লাখ পশু। হাটগুলোর ইজারাদারেরা এরিমধ্যে বেশিরভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া পুলিশ প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশনও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য আয়োজন সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে। আসছে ১৩ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির পশুর আনুষ্ঠানিক বেচা-বিক্রি শুরু হবে।
শুক্রবার (৭ জুন) রাজধানীর বসিলা, গাবতলী ও খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া পশুর হাট সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ইজারা হওয়া হাটের জায়গাগুলোতে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। হাটে নির্ধারিত জায়গাগুলো ব্যাপারীদের নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নিতে দেখা গেছে। হাটের ভেতরে গরু বাঁধার জন্য বাঁশ, পলিথিন ও ত্রিপল দিয়ে শেড তৈরি করা হচ্ছে। হাটে ট্রাক প্রবেশ করলেই ব্যাপারীরা নির্ধারিত জায়গাগুলোতে নিজ নিজ পশু এনে বেঁধে রাখছেন। পশুর হাট সংলগ্ন মেইন রোডে বড় বড় গেট করা হয়েছে। গেটগুলোতে চলছে আলোকসজ্জার কাজ। এসব পশুর হাট সাজাতে সাধারণ শ্রমিকের পাশাপাশি ইজারাদার বা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্তরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।
গত ৫ জুন (বুধবার) থেকে হাটে পশুর ট্রাক আসতে শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া থেকে কোরবানির পশু আসা শুরু করেছে। এবারও বিদেশ থেকে পশু আমদানির কোনও প্রয়োজন নেই বিধায় হাটগুলোতে উঠছে দেশের উৎপাদিত গবাদিপশু। এসব পশুর মধ্যে অধিকাংশই দেশীয় গরু। ছাগল নেই বললেই চলে। তবে, হাটে পশু উঠতে শুরু করলেও ক্রেতা সমাগম তেমন নেই বললেই চলে। যেসব ক্রেতা হাটে ভিড় করছেন, তারা কেবল পশু দেখছেন এবং দাম যাচাই করছেন। সার্বিকভাবে এখনও জমে ওঠেনি কোরবানির পশুর হাট।
পশু ব্যাপারীরা বলছেন, আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারণে পশু নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে ক্রেতার সমাগমও কম। হাট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলে বেচা-বিক্রি বাড়বে।
তবে ক্রেতারা বলছেন, গতবারের চেয়ে এবার পশুর দাম একটু বেশি চাচ্ছেন ব্যাপারীরা। গোখাদ্যের দাম বাড়ায় পশুর দাম এবার কিছুটা বাড়তি চাওয়া হচ্ছে।
চাহিদার তুলনায় দেশে কোরবানি পশুর সংকট নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবার কোরবানির পশু আমদানি করা হবে না।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানির জন্য এক কোটি ৩০ লাখের বেশি পশু রয়েছে। আর দেশে চাহিদা রয়েছে এক কোটি ১০ লাখের মতো। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ২০ লাখ পশু বেশি আছে।
গত বছর সারা দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা ছিল এক কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি। এর মধ্যে এক কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি পশু কোরবানি করা হয়।
কোরবানি হওয়া গবাদি পশুর মধ্যে ৪৫ লাখ ৮১ হাজার ৬০টি গরু, এক লাখ ৭ হাজার ৮৭৫টি মহিষ, ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৮টি ছাগল, পাঁচ লাখ দুই হাজার ৩০৭টি ভেড়া এবং এক হাজার ২৪২টি অন্যান্য পশু ছিল।






