মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় নতুন করে উঠে এসেছে লিওনেল মেসির নাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম নেটিজেনরা মজার ছলে মেসিকে ‘বিজেপির এজেন্ট’ বলছেন। পেছনে রয়েছে মেসির কলকাতা সফরের কাকতালীয় এক ঘটনা।
২০১১ সালে মেসি যখন কলকাতায় এসেছিলেন, সেই বর্ষে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটে এবং ক্ষমতায় আসে টিএমসি। আবার ২০২৫ সালে মেসি কলকাতা সফর করে গেছেন, আর তার কিছুদিন পর রাজ্যটিতে আবার সরকার পরিবর্তন হল। এই মিলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নানারকম মিম ও ট্রোল ট্রেন্ডিং।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন মজার ছলে লিখেছেন, ‘মেসি ২০১১-তে এসে সরকার বদলালেন, ২০২৫-এ এসে আবার বদলে দিলেন— গোটের ক্ষমতা সত্যিই আলাদা!’
২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী মহাতারকা মেসি ‘গোট ট্যুর অব ইন্ডিয়া’ উপলক্ষে কলকাতায় এসেছিলেন। যদিও সেই আয়োজন পুরোপুরি ভেস্তে গিয়েছিল। সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ভক্তরা প্রিমিয়াম টিকিট কেটেও মেসিকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। মাত্র ১০ মিনিটের মতো উপস্থিতি ছিল। রাজনৈতিক লোকজন ও নিরাপত্তা ঘেরাটোপ, এসব নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন ভক্ত-সমর্থক। তারা বোতল ছুঁড়েছিলেন, স্টেডিয়ামের সম্পত্তি ভাঙচুর করেছিলেন।
ফুটবলপ্রিয় শহর কলকাতায় এ ঘটনা বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। শেষপর্যন্ত মমতাকে ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে হয়েছিল, তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং আয়োজককে আটক করা হয়েছিল। অরূপ বিশ্বাস তখন ক্রীড়া মন্ত্রী ছিলেন। সমালোচনার মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। বিজেপি এই ইস্যুকে ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছে। অনেকে বলছেন, ফুটবল ভক্তদের ক্ষোভ টালিগঞ্জে ভোটে প্রভাব ফেলেছে। আর এ নিয়েই ভারতে ট্রেন্ডিংয়ে আছেন বিশ্বজয়ী মেসি।
রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট নেতা অরূপ বিশ্বাসের আসনে এবার জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। তার কাছে ৬,০১৩ ভোটে হেরেছেন অরূপ। গতবার ৫০ হাজার ভোটে জিতলেও এবার আসনটিতে হেরেছেন তিনি।








