মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনে চালকের আসনে ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে মুদ্রার অপর পিঠও দেখেছে টিম টাইগার্স। তবে তৃতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিক দল। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ বোলিংয়ে প্রথম সেশনে পাকিস্তানের চার ব্যাটারকে ফিরিয়ে ম্যাচের নাটাই দখলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
শুক্রবার ডাচ-বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১১৭.১ ওভারে ৪১৩ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে নেমে ৪৬ ওভারে ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে পাকিস্তান। ২৩৪ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনে ব্যাটে নেমে প্রথম সেশনে ৫ উইকেটে ২৫১ রান তুলেছে সফরকারী দল। ১৬২ রানে পিছিয়ে থেকে সালমান আলি আঘা ১২ রানে এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান ৮ রানে দ্বিতীয় সেশন শুরু করবেন।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ২৫ ওভার ব্যাট করে ৭২ রান যোগ করতেই পাকিস্তান ৪ ব্যাটারকে হারায়। দিনের শুরু দিকে সেঞ্চুরি তুলে নেন আজান আওয়াইস। নাহিদ রানার বলে পয়েন্ট অঞ্চলে বল ঠেলে এক রান নিয়েই হেলমেট খুলে মুষ্টিবদ্ধ হাত বাতাসে ছুড়ে উদযাপন করেন। টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি পাওয়ার আনন্দ তাকে চোখে-মুখে স্পষ্ট ছিল। ১৪ চারে ১৫৩ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন।
ইনিংসের শুরুর দিকে নাহিদ রানার একটি বাউন্সারে হেলমেটে আঘাত পেয়ে শারীরিকভাবে অস্বস্তি বোধ করছিলেন আজান। মাথা ঘুরতে থাকার কারণে দুইবার ফিজিও মাঠে ঢুকে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কনকাশনের শঙ্কায় পড়লেও ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার অদম্য মানসিকতা দেখান। ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪৮.৯ গড়ে রান করা ২১ বর্ষী এই তরুণ অভিষেকেই নিজের জাত চেনাতে মরিয়া ছিলেন। পাকিস্তানের ১৫তম ব্যাটার হিসেবে তিনি অভিষেক টেস্টে দেখা পেলেন সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরির পর আজান বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। তাসকিন আহমেদের অফ স্ট্যাম্পের বাইরে শর্ট লেন্থ ডেলিভারিতে কাট শট খেলেছিলেন। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্লিপে। দ্রুত গতিতে আসা বল নাজমুল হোসেন শান্ত দারুণভাবে লুপে নেন। ১৬৫ বলে ১৪ চারে ১০৩ রানে ফেরেন। তাতে ভেঙে যায় আব্দুল্লাহ ফজলের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে তার ১০৪ রানের জুটি। এরপর ১০২ বল খেলে আব্দুল্লাহ ফজল অভিষেক টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন।
তবে দ্রুতই ফিরে যান শান মাসুদ ও সৌদ শাকিল। ৫৯ ওভারের শেষ বলে দলীয় ২২৬ রানে তাসকিনের শিকার হন শান। টাইগার পেসারের বলে পয়েন্টে থাকা সাদমান ইসলাম সামনে ঝাপিয়ে দুরন্ত ক্যাচ নিলে ৯ রানে ফেরেন মাসুদ। পরের ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন রানের খানা না খোলা শাকিল। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের গতিপথ ফিরে পায় বাংলাদেশ।
৬৩.৪ ওভারে ২৩০ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় পাকিস্তান। মিরাজের বলে ফজল মিড অনে তাইজুলের ক্যাচে পরিণত হন। ১২০ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৬০ রান করেন। তাতে মিরপুর টেস্টে সুবিধাজনক অবস্থান ফিরে পায় টাইগাররা। ২০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
চাপ সামলে ওঠার আগেই লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ দেন সালমান। তাসকিনের ডেলিভারিটি নো হওয়াতে রানের খাতা খোলার আগেই জীবন পান তিনি। পরে রিজওয়ানসহ আরও ২১ রান যোগ করে প্রথম সেশনের খেলা শেষ করেন।
এর আগে প্রথম দিন ৬ চারে ৭২ বলে ৪৫ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার ইমাম-উল-হক।
এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে মিরাজ ৩টি এবং তাসকিন দুটি উইকেট নিয়েছেন।








