যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে দেশটির পবিত্রতম ধর্মীয় স্থাপনা ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হয়েছে।
লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে সপ্তাহব্যাপী শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সমাহিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, খামেনির দাফনের মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহ ধরে চলা জানাজা, শোকযাত্রা ও শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি হলো। চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গত মাসে যুদ্ধবিরতি হলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে মাশহাদ শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলি শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। একটি সুসজ্জিত ট্রাকে করে খামেনির কফিনটি ধীরগতিতে ইমাম রেজা মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় রাস্তার দুই পাশে লাখো মানুষ সমবেত হন। শোকমিছিলে অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল খামেনির ছবি এবং লাল রঙের পতাকা ও প্ল্যাকার্ড। শিয়া ঐতিহ্যে ব্যবহৃত এই লাল রঙ মূলত হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকারের প্রতীক। খামেনির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ইমাম রেজা মাজার চত্বরে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে এক হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন। সেই একই হামলায় খামেনির নাতনি, মেয়ে, জামাতা এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জোহরা হাদ্দাদ আদেলও প্রাণ হারান। আজ তাদের সবাইকে খামেনির সঙ্গেই সমাহিত করা হয়েছে। এদিকে, এই হামলায় খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত তার ছেলে মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।







