টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ১৪ মিটার রেকর্ড করা হয়। সেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় পানি বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ভারতের উজান এলাকায় কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানিপ্রবাহ বেড়েছে। এর সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে অব্যাহত বৃষ্টিপাত যুক্ত হওয়ায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। এর আগে গত মাসের শেষ দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করেছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বুধবার থেকে আবার পানি বাড়তে শুরু করে এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ফলে চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে নদীর চরাঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক ও ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলাই স্থানীয়দের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
পানির চাপ বাড়তে থাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদীতীরবর্তী উঁচু সড়কগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় এসব অবকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে টেকসই সংস্কার করা হলে বর্ষাকালে বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতো।
ঘোড়ামারা চরের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি ওঠানামা করলেও বৃহস্পতিবার বৃদ্ধির হার অনেক বেশি ছিল। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশু রক্ষা এবং সাপ-পোকামাকড়ের উপদ্রব মোকাবিলাও কঠিন হয়ে উঠছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি আরও বাড়লে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।







