রাজধানীর বারিধারায় ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে ডিউটিরত কনস্টেবল মনিরুল হকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন আরেক কনস্টেবল কাওসার আলী। গুলি করেই কাওসার হতভম্ব হয়ে যায়। সে সময় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এই কারণে বারবার বলছিলেন, ‘এটা কীভাবে হয়ে গেলো! আমি জানি না।’
আজ রোববার দুপুরে ডিএমপি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপ্স) ড. খ. মহিদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, কনস্টেবল মনিরুলের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে কনস্টেবল কাওসার আট থেকে নয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। নিজের সহকর্মীকে গুলি করার মেরে ফেলার পর মানসিকভাবে নার্ভাস থাকে। যে কারণে ঘটনা ঘটানোর পরও অস্ত্র রেখে কনস্টেবল কাওসার সেখানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। কারণ তিনি স্ট্রেসটা নিতে পারছিলেন না। ঘটনার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন হয়তো কত বড় অন্যায় ও অমানবিক কাজ করেছেন। হয়তো দু-একদিন গেলে বোঝা যাবে গুলি করার কারণ।

ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, দুই পুলিশ সদস্যের মধ্যে বিরোধ ছিল- এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। কাওসারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, কিন্তু বিরোধের কোনো তথ্য তার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি অভিযুক্ত কাওসারের গত এক-দুই মাসের ডিউটির রেকর্ড দেখেছি। রেকর্ডে কাওসার যথাযথভাবেই ডিউটি করেছে।
‘গুলি করার আগে তদের মধ্যে কী বিষয় নিয়ে তর্ক হয়েছিল, এখনো কনফার্ম হতে পারিনি আমরা। তদন্তে করে জানা যাবে’- যোগ করেন ড. মহিদ উদ্দিন।
অতিরিক্ত ডিউটির কারণে কনস্টেবল কাওছার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খ. মহিদ বলেন, ‘না, ডিউটির কারণে কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। এখন কোথাও ডিউটির অতিরিক্ত চাপ নেই। স্বাভাবিকভাবেই ডিউটি করছেন সবাই।’
সামগ্রিকভাবে পুলিশ সদস্যদের কাউন্সেলিংয়ের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন: প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাউন্সেলিংয়ের সিস্টেম নেই। তবে আমরা নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কী করা যাবে, কী করা যাবে না; সে সম্পর্কে বলা হয়। এটাও এক ধরনের কাউন্সেলিং।







