কারুকার্য। যেখানে গৃহসজ্জার নানান পণ্যের পাশাপাশি গৃহসজ্জাবিষয়ক পরামর্শ বা সহায়তা পাওয়া যায়। যান্ত্রিক এই সময়ে কাজের সূত্রে আমরা শহরে বাসস্থান গড়ে তুলি। সে বাসস্থানটা হয়তো নিজের পছন্দের মতো থাকে না। হয়তো জায়গা কম কিংবা পর্যাপ্ত সবুজ নেই। যার দরুন দিনশেষে নীড়ে ফিরে আমরা সেই শান্তি অনুভব করি না। ইট-কংক্রিটের দেয়ালে একটু সবুজ, একটু শীতলতা আর একটু শান্তি অনুভব করানোকেই নিজেদের সফলতা মনে করেন কারুকার্যের প্রধান নির্বাহী মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, ‘শহরের প্রতিটি বাসায় শান্তি এবং সবুজ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নগরকে বসবাসযোগ্য করে তোলার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা ২০১৬ সাল থেকে কাজ করছি।’
মাহমুদুলের বেড়ে ওঠা ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী এবং বাউণ্ডুলে। পড়াশোনা শেষে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন ওডেস্ক বা বর্তমান আপওয়ার্কে একজন ডিজাইনার হিসেবে। বাউণ্ডুলে মন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম মানে না। তাই স্বাধীন জীবনযাপন সব সময় পছন্দ করেন মাহমুদুল। স্বাধীনভাবে কাজ করতে গড়ে তোলেন কারুকার্য। কারুকার্য গৃহসজ্জাবিষয়ক পণ্য বিক্রি করলেও রুম এবং বারান্দা সজ্জার বিষয়েও সাহায্য করে থাকে। বর্তমানে কারুকার্যে ফুলটাইম কাজ করেন ৯ জন। আর ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আরও বেশ কয়েকজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার কাজ করেন। ২০১৫ সালের শেষের দিকে আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে একটি অনুষ্ঠান হয় কানেক্টিং স্টার্টটাপ বাংলাদেশ নামে।
সেখানে আইডিয়া সাবমিট করেন মাহমুদুল। সেই অনুষ্ঠানে একটি প্রশ্ন থেকে কারুকার্যের আইডিয়া মাথায় আসে তার। প্রশ্নের উত্তর ছিল এমন যে, সব সময় নতুন কিছু করলেই সফল হওয়া যাবে এমন নয়; মাঝে মাঝে পুরোনো জিনিস নতুনভাবে নিয়ে এলেও সফল হওয়া যেতে পারে। সেই পুরোনো জিনিস খুঁজতে গিয়ে মাহমুদুল হ্যান্ডিক্রাফট আবিস্কার করেন; পরে এই ক্যাটাগরিকে রেনোভেট করে নতুন ইনোভেশন এনে বাজারজাত করেন। কারুকার্য চিরাচরিত ডিজাইনের বাইরে গিয়ে নান্দনিকভাবে ঘর সাজানোর কাজ করছে। যে কোনো বাসায় কাজ নেওয়ার আগে তারা বাসা ভিজিট করে বসেন গবেষণায়। তারপর লেগে যান কাজে।
গ্রাহকের চাহিদা ও নিজেদের সৃজনশীলতায় ভর করে এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক বাসা কারুকার্য নিজেদের মতো করে সাজিয়ে তুলেছে। আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের শহরগুলোতে যে বায়ুদূষণের মহাযজ্ঞ চলছে তাতে কিছুদিন পর সুস্থ অক্সিজেন পাওয়া দুস্কর হয়ে যাবে। তাই আমরা প্রতিটি বাসায় গাছ পৌঁছাতে চাই। প্রতিটি বাসায় আমরা এমন একটা আবহ আনতে চাই যাতে বাসায় প্রবেশ করলেই মনে হয় যে বাসায় প্রবেশ করেছি। আগামীতে দেশের প্রতিটি জেলা শহরেও আমাদের এই কার্যক্রম পৌঁছে দিতে চাই।’








