আট বিভাগ ঘুরে শ্রীমঙ্গলে শেষ হলো কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব

নতুন প্রজন্মকে মহাপুরুষ সন্ত কবীর ও লালন ফকিরের কালজয়ী ভাবাদর্শ অনুধাবন ও অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ।
তিনি বলেছেন, দেশের মহৎ ঐতিহ্য ও সত্য ইতিহাসবোধ থেকে তরুণ প্রজন্মকে বিচ্ছিন্ন করে নৈরাশ্য ও নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এ পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ জরুরি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জেলা পরিষদ মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ।
তিনি বলেন, দেশব্যাপী কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের আয়োজন সাংস্কৃতিক জাগরণের একটি ইতিবাচক সূচনা। প্রতিবছর নিয়মিত এ ধরনের সর্বজনীন আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে। এর মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে কবীর ও লালনের কালজয়ী দর্শন সম্পর্কে জানার পাশাপাশি তা অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
লালন বিশ্বসংঘের আয়োজনে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়েছিল এ উৎসব। দেশের আটটি বিভাগীয় অঞ্চলে আয়োজন শেষে শুক্রবার সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এর সমাপনী হয়।
অখণ্ড কোরানদর্শনের প্রণেতা সুফি সদর উদ্দিন আহমদ চিশতীকে উৎসর্গ করা এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবীর-লালন গবেষক আবদেল মান্নান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, পর্যটনসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য পরিচিত শ্রীমঙ্গলে কবীর-লালনের ভাবসংগীতকে কেন্দ্র করে এ উৎসব স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষ অতিথি অনিরুদ্ধ দাস বলেন, মহাপুরুষদের সর্বকালীন ও সর্বজনীন সত্যদর্শন কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর আবেদন সর্বব্যাপী।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কবীর-লালন সংগীত পরিবেশন করেন ঢাকা থেকে আসা কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা। পরে বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন চা-বাগানে কর্মরত শ্রমজীবী কবীরপন্থী ও রবিদাসপন্থী সম্প্রদায়ের শিল্পীদের সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।






