ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। কোন সড়কে এসব যান চলতে পারবে, চলাচলের সীমা, যানবাহনের কারিগরি মান এবং চালকদের প্রশিক্ষণ সবকিছুই নতুন নীতিমালায় নির্ধারণ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার বড় ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেড়েছে। এতে মানুষের যাতায়াতে কিছু সুবিধা তৈরি হলেও একই সঙ্গে যানজটসহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তার মতে, এসব রিকশার চালকদের অনেকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই। ফলে সড়কে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো কারিগরি দিক থেকে কতটা নিরাপদ ও মানসম্মত, সেটিও যাচাই করা জরুরি।
তিনি বলেন, সরকার দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় এবং কী পরিমাণে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে পারবে, যানবাহনের মান কী হবে এবং চালকদের সক্ষমতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে এসব বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের মৎস্য খাতের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর জর্জ ইনস্টিটিউট স্টেডিয়ামে মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিতে ১৪ জন মৎস্য পেশাজীবী, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের যে অগ্রগতি হয়েছে, মৎস্য খাতও তার অন্যতম উদাহরণ।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ডের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে ৪৫৭ জন উপকারভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সরকারের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানান তিনি।
ফ্যামিলি কার্ডে বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে জাহেদ উর রহমান বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তার ভাষ্য, নিম্নআয়ের পরিবারের হাতে অর্থ গেলে তারা তা দ্রুত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করবেন। এতে শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোই উপকৃত হবে না, বাজারেও অর্থের প্রবাহ বাড়বে।
চাহিদা বাড়ার সঙ্গে নতুন ব্যবসা ও শিল্পের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যার মাধ্যমে কর্মসংস্থানও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ফ্যামিলি কার্ডে ব্যয় করা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা অর্থনীতিতে বহুগুণ প্রভাব তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডকে শুধু দরিদ্র মানুষের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে একদিকে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে চাহিদা ও কর্মসংস্থান তৈরির পথও তৈরি হবে।
চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে দিয়ে কর্মসূচির সম্প্রসারণ শুরু হলেও ভবিষ্যতে প্রতিবছর এর আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ধীরে ধীরে দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।









