এখনও টিকে আছে যশোরের মণিহার সিনেমা হল

সংগৃহীত ছবি
শত প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে এথনও টিকে আছে যশোরের ঐতিহবাহী ও জনপ্রিয় মণিহার সিনেমা হল। দেশে যখন একের পর সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর আসছে তখন যশোরের প্রাণকেন্দ্রে মণিহার সিনেমা হল বিনোদন স্মারক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এই সিনেমা হলটি বেশ আগে মাল্টিকমপ্লেক্সে পরিণত হরা হয়েছে। হলে নতুন নতুন সিনেমা শো এখনও চলমান রয়েছে। মণিহারের বড় পর্দায় সিনেমা দেখার জন্য কমবেশি দর্শকও আসছে। তবে আগের তুলনায় তা একেবারেই নগণ্য। বর্তমানে এই হলে ১৪৩০ জন দর্শক একসাথে সিনেমা দেখতে পারে।
তবে এটি সত্য, সেই আগের মতো মণিহার সিনেমা হলের জৌলুষ নেই। হলে বসে সিনেমা দেখার দর্শক কমে যাওয়ার জন্য মণিহার অনেকটাই প্রাণচাঞ্চল্যহীন। শুধুমাত্র ঈদ বা অন্য কোনো উৎসব ঘিরে খানিকটা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর হয়ে উঠলেও বাদবাকি সময় অনেকটাই নিষ্প্রাণ হয়ে থাকে। অন্য যে কোনো শহরের তুলনায় বরাবরই যশোর সাংস্কৃতিক শহর হিসেবে বড় বেশি খ্যাত ছিল। সিনেমা প্রেমিদের জন্য যশোর শহরে ছিল ঐতিহ্যবাহী মণিহার, চিত্রা, নিরালা, মানসী, তসবীরমহল সিনেমা হল। কিন্তু মণিহার ছাড়া এখন আর কোনোটিরই অস্তিত্ব নেই। নব্বই দশকের পর সিনেমা ব্যবসাতে ধস নামলে চিত্রা, নিরালা হল ভেঙে মার্কেট তৈরি করা হয়। তবে যশোর নগরবাসীর মুখে এখনও চিত্রা মোড় বা নিরালার মোড় শব্দ উচ্চারিত হয় সবসময়।
আশির দশকের প্রারম্ভে মনিহার সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা করেন খুলনার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম। ১৯৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সোহেল রানা ও সুচরিতা অভিনীত জনি’ সিনেমা প্রদর্শনের মধ্যে দিয়ে এই সিনেমা হলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সিনেমা হলটির অবয়ব এবং ভেতরের বসার ব্যবস্থা আধুনিক হওয়ার কারণে সে সময় মণিহার সিনেমা দেশব্যাপী আলোড়ন তুলে। সে সময় খুলনা বিভাগের উল্লেখ্যযোগ্য সিনেমা হলগুলোর মধ্যে ছিল খুলনাতে পিকচার প্যালেস, বৈকালি, উল্লাসিনী, সঙ্গীতা, যশোরে চিত্রা, নিরালা, তসবীরমহল, মাগুরাতে পূর্বাশা, মধুমতি, ঝিনাইদহে ছবিঘর, প্রিয়া, কুষ্টিয়াতে বাণী, বনানী, রক্সি, পদ্মা, মেহেরপুরে নীলমণি, নড়াইলে আল্পনা সিনেমা হল।
বর্তমানে মণিহার সিনেমা হলের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের বড় ছেলে মো. জিয়াউল ইসলাম। অনুসন্ধানে জানা যায়, আশির দশকের শুরুতে ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম একটি অত্যাধুনিক সিনেমা হল তৈরির পরিকল্পনা নেন। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক সিনেমা হলের জন্য একটি আকর্ষণীয় নাম আহবান করে দৈনিক ইত্তেফাকসহ কয়েকটি পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেন। সেই বিজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে হাজার হাজার চিঠি আসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। শেষে চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো জনৈক ব্যক্তির দেওয়া ‘মনিহার’ নামটি চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয় এবং নির্বাচিত ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হয়। শুধু মনিহারই নয়, পরবর্তীতে সিরাজুল ইসলাম রাজশাহীর অন্তরা এবং জয়পুরহাটের দিনান্ত সিনেমাও পরিচালনার দায়িত্ব নেন।
মণিহার সিনেমা হলের ম্যানেজার মোল্লা ফারুক আহমেদ জানান, এখন দর্শক একেবারেই নেই। তবে ঈদে ছবি তুলনামূলক ভালো চলে। সে সময় ব্যবসাও ভালো হয়। ম্যানেজার মোল্লা ফারুক আহমেদ আরও জানান, বিদেশী ছবি চালানোর অনুমতি এখন নেই। সেটা হলেও হলে প্রাণচাঞ্চল্য একটু বেশি থাকতো। কিন্তু সে বিষয়েও সরকারের নীতিগত কোনো পরিবর্তন নেই। এখনও টিকে আছে যশোরের মণিহার সিনেমা হল।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই–এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)





